ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার বিকেল ৩টার দিকে তাকে গ্রেপ্তারের পর শাহবাগ থানায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।
তবে শেষ মুহূর্তেও তিনি পালাতে চেয়েছিলেন বলে তাৎক্ষণিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান।
ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মাদ আস সামশ জগলুল হোসেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
এ মামলায় তার বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) জ্যেষ্ঠ এএসপি রিমা সুলতানার দেওয়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছে আদালত।
সোমবার তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক।
গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ সূত্র জানায়, ওসি মোয়াজ্জেম গতকাল শনিবার রাতে তার এক আত্মীয়ের বাসায় ছিলেন। রোববার হাইকোর্টে গেলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
তবে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, 'মোয়াজ্জেম হাইকোর্টে তার আইনজীবীর চেম্বারে গিয়েছিল। সেখানে ডিবির এটি একটি দল অভিযান চালায়। তা টের পেয়ে সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে আসে। পরে শাহবাগ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে'।
গত ১৫ এপ্রিল ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইয়্যেদুল হক সুমন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন- ২০১৮-এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় মামলাটি করেন। এজাহারে বলা হয়, মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি অধ্যক্ষের হাতে কীভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন, এর বিবরণ ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নিয়ম ভেঙে তার মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন। তার বক্তব্য নেওয়ার সময় দুজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।
যেহেতু ওসি মোয়াজ্জেম নিয়মবহির্ভূতভাবে অনুমতি ব্যতিরেকে ভিডিও ধারণ করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার করেন এবং অপমানজনক ও আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করেন, তাই তা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন- ২০১৮ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।