ঢাকায় সবচেয়ে বেশি বস্তি আদাবরে, কম মতিঝিলে

রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার বস্তিতে সাড়ে ছয় লাখ মানুষ বাস করে। রবিবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, ঢাকা উত্তর সিটির আদাবর থানায় সর্বাধিক ৪৭২ বস্তি রয়েছে। সবেচেয়ে কম দক্ষিণ সিটির মতিঝিল থানায় রয়েছে ৪ বস্তি।

২০১৪ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এসব তথ্য দেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বস্তির সংখ্যা ১ হাজার ৬৩৯টি। মোট খানা এক লাখ ৩৫ হাজার ৩৪০টি এবং এসব বস্তিতে মোট চার লাখ ৯৯ হাজার ১৯ জন মানুষ বসবাস করেন।

‘অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এক হাজার ৭৫৫টিতে মোট খানার সংখ্যা ৪০ হাজার ৫৯১ এবং জনসংখ্যা এক লাখ ৪৭ হাজার ৫৬ জন। এ হিসেবে দুই সিটির মোট বস্তির সংখ্যা তিন হাজার ৩৯৪টি যেখানে মোট ছয় লাখ ৪৬ হাজার ৭৫ জন মানুষ বসবাস করেন’।

তিনি জানান, উত্তর সিটির আদাবরে ৪৭২টি, বাড্ডায় ১২১টি, বনানী ১০টি, দারুস সালামে ৫৪টি, ভাসানটেকে ৮টি, গুলশানে ৮টি, কাফরুলে ১০৩টি, খিলক্ষেতে ৭১টি, মিরপুরে ১১৭টি, মোহাম্মদপুরে ২৮৪টি, পল্লবীতে ৭০টি, রামপুরায় ১৬৮টি, শাহআলীতে ১৫টি এবং শেরেবাংলা নগরের ১৩৮টি বস্তি রয়েছে।

অপরদিকে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বংশালে ১৯টি, চকবাজারে ১৫০টি, ধানমন্ডিতে ১৭টি, গেন্ডারিয়ায় ৪৯টি, হাজারীবাগে ২৪৩টি, কলাবাগানে ৫টি, কামরাঙ্গীরচরের ২৬৫টি, খিলগাঁওয়ে ৪২৬টি, কোতোয়ালিতে ৫টি, লালবাগে ২৭৮টি, মতিঝিলে ৪টি, নিউ মার্কেটে ৫টি, রমনায় ৮টি, শাহজাহানপুরে ৭৯টি, শাহবাগে ৭টি, সূত্রাপুরে ৫টি ও ওয়ারীতে ২৬টি বস্তি রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রকল্প চলমান রয়েছে। উত্তর সিটির বস্তির দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইউএনডিপি ও ইউকেএআইডি এর আর্থিক সহায়তায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।