ফের উত্তাল হংকং

চীনের মূল ভূখণ্ডে বাসিন্দাদের প্রত্যর্পণ বিল পেছানোর এক দিন পর গতকাল রবিবার হংকংয়ের প্রাণকেন্দ্রে ফের বিক্ষোভে নেমেছে লাখ লাখ মানুষ। কয়েক দশকের সবচেয়ে সহিংস বিক্ষোভের পর কালো পোশাক পরা এই বিক্ষোভকারীরা এবার চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলটির প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যামের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিশাল সমাবেশে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজনের হাতে সাদা ফুলের গুচ্ছ দেখা যায়। কারও কারও হাতে ‘গুলি কোরো না, আমরা হংকংবাসী’ লেখা ব্যানার ছিল। গত বুধবার সংঘর্ষের সময় পুলিশ রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার পর গতকাল সংঘর্ষ এড়াতে চাইছিল তারা।

ক্যারি ল্যামের প্রতি হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে  হংকংয়ের বাণিজ্যিক কেন্দ্রবিন্দুর পাশে সড়ক, ফুটপাত ও রেলওয়ে স্টেশনে কৃষ্ণজোয়ার সৃষ্টি করেছেন তরুণ থেকে বয়োবৃদ্ধরা। তাদের হর্ষধ্বনির পাশাপাশি ল্যামের পদত্যাগ দাবিতে মাইকে বলা ‘স্টেপ ডাউন’ (পদত্যাগ করো) প্রতিধ্বনিত হয়েছে সড়কজুড়ে। তাদের অনেককে ‘কালো পুলিশকে ধরো’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। এর মধ্য দিয়ে গত বুধবারের বিক্ষোভে ৭০ জনের বেশি আহত হওয়ার পেছনে পুলিশের ‘অতি উৎসাহের’ প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

চীনপন্থি ল্যাম গত শনিবার প্রত্যর্পণ বিল অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে দেন। ওই সময় তিনি ‘গভীর দুঃখ ও অনুতাপ’ প্রকাশ করলেও বিলের জন্য ক্ষমা চাননি। ১৯৯৭ সালে চীনের কাছে ব্রিটেন ভূখণ্ডটি ফেরত দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্তটি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পিছু হটা। এর মধ্য দিয়ে ল্যাম শহরটির নেতৃত্ব দিতে সক্ষম কি না, সেই প্রশ্নও দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৬ বছর বয়সী কিশোরী ক্যাথরিন চিউং বলে, ‘গতকাল (গত শনিবার) ক্যারি ল্যাম ক্ষমা চাইতে

অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এটা অনাকাক্সিক্ষত।’ সে আরও বলে, ‘তিনি মিথ্যায় ভরা ভয়ংকর নেতা...আমি মনে করি আমাদের কেবল শান্ত করতে তিনি বিল পেছাচ্ছেন।’ সমস্বরে চিউংয়ের সহপাঠী সিন্ডি ইপ বলে, ‘এ কারণে আমরা এখনো বিলটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। আমরা তাকে (ল্যাম) আর বিশ্বাস করি না। তাকে সরে যেতে হবে।’

সমালোচকদের মতে, প্রত্যর্পণের প্রস্তাবিত আইন হংকংয়ে আইনের শাসনকে ঝুঁকিতে ফেলার পাশাপাশি এশিয়ার বাণিজ্যিককেন্দ্র হিসেবে শহরটির আন্তর্জাতিক খ্যাতি নষ্ট করতে পারে। হংকংয়ের কিছু ধনকুবের এরই মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাইরে সরানো শুরু করেছেন। অধিকারকর্মী ও বিনিয়োগকারী ডেভিড ওয়েব গতকাল এক নিউজলেটারে বলেন, ল্যাম যদি কোনো শেয়ার হতো, তবে তার মূল্য শূন্য ধরার পরামর্শ দিতেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এটাকে ক্যারি (ক্যারি ল্যাম) কারবার বলব। তিনি সন্দেহাতীতভাবে জনগণের আস্থা হারিয়েছেন।’

এদিকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র পিপলস ডেইলি গতকাল এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলেছে, কেন্দ্রীয় কর্র্তৃপক্ষ ল্যামের প্রতি ‘পূর্ণ সমর্থন’ ব্যক্ত করেছে।