বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র চীনের জনগণের আকাক্সক্ষাকে অবজ্ঞা করেছে বলে মন্তব্য করেছে পেইচিংয়ের প্রভাবশালী সাময়িকী কুয়োশি। গতকাল রবিবার চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির দলীয় এই সাময়িকী বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছে পেইচিং।
সাময়িকীতে প্রকাশিত এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ নিরসনের আলোচনায় পেইচিংয়ের মূলনীতিতে ছাড় দেবে না চীন। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমস-এর প্রধান সম্পাদক হু শিজিন এক টুইট বার্তায় বলেছেন, এই সম্পাদকীয়তে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক চাপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চীনা সমাজের নতুন সন্নিবেশ প্রতিফলিত হয়েছে।
চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে গত বছর থেকে পেইচিংয়ে রপ্তানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের কথিত সংরক্ষণশীল নীতির ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পেইচিংও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপ করে।
বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে চলতি বছরের মে মাসে ওয়াশিংটন-পেইচিং আলোচনায় বসলেও কোনো চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়। এই মাসের শেষ নাগাদ জাপানে জি-২০ সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং এই বিরোধ নিরসনে আলোচনায় বসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল রবিবার কুয়োশিতে প্রকাশিত মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিরোধের তীব্রতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে চীন ভীত হবে না। চীনের সামনে যেমন কোনো বিকল্প নেই, তেমনি এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায়ও নেই, কেবল শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা শক্তির চীনা জনগণের এই ইস্পাতকঠোর প্রতিজ্ঞাকে খাটো করে দেখা উচিত হবে না।’
মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের যুগে বাণিজ্যিক সুরক্ষা হলো বিষ, কোনো সর্বরোগের ওষুধ না।’ প্রতিবেদনটি জানিয়েছে, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন খরচ বাড়াবে আর দেশটির ভোক্তাদের মূল্যস্ফীতির দিকে ঠেলে দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের গুটি কয়েক নাগরিক বাণিজ্য বিরোধের কারণে সুবিধা পেলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ দুর্ভোগে পড়বে।