টিম স্পিরিট এগিয়ে রাখবে বাংলাদেশকে

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচের আগে আমি ফিরে তাকাতে চাই ইংল্যান্ড-উইন্ডিজ ম্যাচের দিকে। খেয়াল করে দেখবেন, সে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ ওভার পর্যন্ত বড় সংগ্রহের পথেই হাঁটছিল। কিন্তু ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চার ও মার্ক উড গতিময়, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ক্যারিবীয়দের ২১২ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল। আমাদের দলে কিন্তু আর্চার কিংবা উডের মতো গতিময় বোলার নেই। তাই গতি দিয়ে উইন্ডিজকে পরাস্ত করা যাবে না। একটা দিক অবশ্য ঠিক যে, উইন্ডিজের আগের ম্যাচগুলোতে সেভাবে বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি। তাদের মেরে খেলার দিকে ঝোঁক অনেক বেশি। তাই সেট হয়েও দেখা গেছে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছে। তাছাড়া ক্রিস গেইল ও আন্দ্রে রাসেলকে মোটেই শতভাগ ফিট মনে হয়নি আগের ম্যাচগুলোতে। তাদের প্রতিভা এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবে বিশ্বকাপের মতো আসরে এরকম ফিটনেস মোটেই কাম্য নয়। নিকোলাস পুরান ও শিমরন হেটমেয়ার আগের ম্যাচে ভালোই করেছে। তবে তারা কেউই বড় জুটি গড়তে পারেনি।

আমি বলব, গতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখে বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনা গেলে বাংলাদেশের বোলাররা উইন্ডিজের বিপক্ষে ভালো করবে। সাকিবের কাছে আমার অনেক প্রত্যাশা। শনিবার দেখা গেল দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ইমরান তাহির স্পিন দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নিয়েছে। মনে রাখতে হবে উইন্ডিজের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বেশি। তাদের ঠেকাতে হলে সাকিবকে যেমন বুদ্ধি খাটিয়ে বল করতে হবে তেমনই মিরাজের অফ স্পিনটাও আমার ধারণা কার্যকর হবে। খুব সম্ভবত আজ রুবেল হোসেন খেলবে। ওর গড়পড়তা গতি ১৩০ থেকে ১৪০। সুতরাং শর্ট পিস বল করতে গেলে ও ভুল করবে। ওকে লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে বল করতে হবে। রিভার্স সুইংটা ওর অনেক বেশি কার্যকর হবে আমার বিশ্বাস। মাশরাফীর কাছেও আমার চাওয়া লাইন-লেন্থ বজায় রেখে বল করা। ঢাকার উইকেট কিংবা সেøা উইকেটে বলের ওপর ওর যেরকম নিয়ন্ত্রণ দেখেছি সেটা ইংল্যান্ডে দেখা যায়নি। আমার মনে হয় ওর খানিকটা ওপরে বল করার দিকে জোর দেওয়া উচিত।

ব্যাটিংয়ে সৌম্য এখনো সহজাত ব্যাটিং করছে। ওর কাছ থেকে একটা ভালো শুরু চাইব। তবে দলের জন্য তামিমের ভালো করাটা জরুরি। ওকে দেখে মনে হচ্ছে, একটু বেশি ডিফেন্সিভ হতে গিয়ে ওর টাইমিংটা ঠিকঠাক হচ্ছে না। ওকে আরও একটু খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলতে দেখতে চাই। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসাররা শর্ট বল লেন্থ ডেলিভারি দিয়ে সাফল্য পেয়েছে। বাংলাদেশের বিপক্ষেও হয়তো তারা এই চেষ্টা করবে। দুই ওপেনারের পাশাপাশি সাকিব, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহকে তাই আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে।

কালকের ম্যাচের আগে আমি বাংলাদেশকে খানিকটা এগিয়ে রাখব তাদের টিম স্পিরিটের কারণে। যেটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে একেবারেই দেখছি না। বিশেষ করে শেষ ম্যাচটায় তাদের শরীরী ভঙ্গিমা মোটেই পেশাদার মনে হয়নি। গেইলকে দিয়ে বল করিয়েছে। ও খুব ফান করছিল। সিরিয়াসনেস দেখিনি। যেটা আমাদের দলে পুরোপুরি আছে। দলের সবার মধ্যে বন্ডিংটা অনেক ভালো। এটাই বাংলাদেশের বড় শক্তি। বিশ্বকাপের সেফিাইনালে খেলতে হলে এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে পরের পাঁচ ম্যাচের চারটিতে জিততে হবে। আমি মনে করি শেষ চারে যেতে সেটাই যথেষ্ট হবে। আজ উইন্ডিজকে হারাতে পারলে আমি মনে করি, পরের চার ম্যাচের তিনটিতে জেতার সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে।