মাদক ব্যবসায় জড়িত চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নানা সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ‘লোভ এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়’র কারণে তাদের থামানো যাচ্ছে না। অল্প কিছুসংখ্যক সদস্যের এমন কর্মকাণ্ডে বাহিনীর সুনাম আজ প্রশ্নবিদ্ধ। এ অবস্থায় বিব্রত পুলিশ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সূত্র বলছে, সোর্স দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা চালাচ্ছেন চট্টগ্রাম পুলিশের অনেক সদস্য। সোর্সদের দিয়ে পুলিশ সদস্যরা এসব মাদকের বিকিকিনি করে নগরী ও জেলায়। জব্দ তালিকায় মাদকের পরিমাণ দেখিয়ে সোর্সদের মাধ্যমে তা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন তারা। জব্দ করা মাদক বাসায় রাখার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছেন নগরীর এক পুলিশ সদস্য।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মাদক ব্যবসায় বিনিয়োগ ছাড়াই বিপুল আয় করে বিত্তশালী হওয়া যায় বলেই অনেক সদস্য সেদিকে ঝুঁকে পড়েন। তারা সহজেই তল্লাশি চৌকি পার হতে পারেন বলে সহজেই ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক কারবারি তাদের বিপুল টাকা দিয়ে দলে ভেড়ায়।
মাদক কারবারিদের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কারাবন্দি মাদক ব্যবসায়ীরাও। গত শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর কদমতলী ফ্লাইওভারের ওপর থেকে কারারক্ষী সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে ইয়াবাসহ। ওই সময় সাইফুলকে গাঁজা সরবরাহ করতে আসা আরেক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে গত শুক্রবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে আগ্রাবাদ সিজিএস কলোনি এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে পাচারের সময় ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক হয়েছেন নগর ট্রাফিক পুলিশের বন্দর জোনে কর্মরত উপ-পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান। তার নামে ডবলমুরিং থানায় মামলাও হয়েছে। ওই মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রেলওয়ে থানার টিএসআই বাবলু খন্দকারের কাছ থেকে সিদ্দিকুর ১০ হাজার ইয়াবা সংগ্রহ করেন। আর বাবলু খন্দকার একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কাছ থেকে সেগুলো সংগ্রহ করেছিল।
সিদ্দিকুরের বরাতে এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পুলিশের চাকরির আড়ালে সিদ্দিকুর এবং বাবলু খন্দকার ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন মিলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় মোটরসাইকেলে করে ইয়াবা দেওয়া-নেওয়া করত।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. শহীদুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশের কোনো সদস্য অপরাধে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে ‘বিভাগীয় ব্যবস্থা’ এবং ‘ফৌজদারি আইনে মামলা’ হয়। মাদকের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। পুলিশ হোক বা সে যে-ই হোক তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। পুলিশ সদস্যরা যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করার কথা, সেখানে তারাই যদি জড়িত হয় তখন আমরা বিব্রত হয়ে পড়ি।
গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে ডিসি শহীদুল্লাহ বলেন, পুলিশের ইয়াবা কানেকশন নিয়ে নজরদারি চলছে। যারা ইয়াবা পাচার কিংবা ব্যবসায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। নজরদারিতে ছিল বলে সাইফুলও গ্রেপ্তার হয়েছে, রেহাই পায়নি। জড়িতদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, পুলিশের অর্জন ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে এ রকম গুটিকয়েক সদস্য। পুলিশের সদস্য হিসেবে আমরা লজ্জিত।