পিস্তল নিয়ে স্কুলছাত্রদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা

নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মারপিটসহ পিস্তল নিয়ে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সোমবার চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলায় আসামি হিসেবে যাদের উল্লেখ করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন- পিস্তল নিয়ে হামলাকারী ঠিকাদার শহরের মহিষখোলার রেজাউল আলম ওরফে জার্মানি আলম, তার ভাই কামরুল আলম, শিক্ষক লাঞ্ছনার দায়ে অভিযুক্ত অভিভাবক মহিষখোলার মঈন উল্লাহ দুলু ও জোয়ের হোসেন দুখু।

সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৯ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র পৌরসভার ভওয়াখালী এলাকার মো. জুলমত খানের ছেলে জাকারিয়া খান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার বিবরণী থেকে ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন সকালে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রদেশ কুমার মল্লিক শহরের মহিষখোলায় কোচিং সেন্টারে পড়ানোর সময় নড়াইল সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা এরিনাকে চড় মারে। এতে ওই ছাত্রী কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে গিয়ে তার বাবা ঠিকাদার মঈন উল্লাহ দুলুকে জানান। এ ঘটনার পর অভিভাবক দুলু ওই শিক্ষকের কোচিং এ গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সামনেই তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে নড়াইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক ছাত্র ঠিকাদার মঈন উল্লাহ দুলুর বিচারের দাবিতে রবিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিল। এ সময় শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী অভিভাবকসহ আসামিরা ছাত্রদের ওপর চড়াও হয়। তারা ছাত্রদের মারধর করে ও পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করার ভয় দেখায়। এ সময় ভয়ে ছাত্ররা দিক-বিদিক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।

নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইলিয়াস হোসেন এ ঘটনায় মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের অপ্রীতিকর ঘটনার পর রবিবার ঠিকাদার রেজাউল আলমের অস্ত্রটি জমা নেয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, ছাত্রদের ওপর পিস্তল উঁচিয়ে ভয় প্রদর্শনকারী ঠিকাদার রেজাউল আলম তার ফেসবুকে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে দাবি করেছেন- ঘটনার সময় লাইসেন্স করা পিস্তলটি আমার গাড়ির সিট পকেটে রাখার জন্য হাতে নিলে, ওই সময় তোলা কয়েকটি ছবি বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। স্কুলের ছাত্ররা আমার সন্তানের মতো। তাদের হুমকি দেয়ার প্রশ্নই আসে না।