কোপা আমেরিকার এবারের আসরে উরুগুয়েকে নিয়ে বাজি ধরার লোক কম। তবে লুইস সুয়ারেজ ও এডিনসন কাভানি জুটি নিয়ে দলটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সামর্থ্য রাখে। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই তার প্রমাণ দিয়ে দিল কোপার সর্বোচ্চবারের চ্যাম্পিয়নরা। ‘সি’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে উরুগুয়ে। ১৫ বারের চ্যাম্পিয়নদের হয়ে সুয়ারেজ ও কাভানি একটি করে গোল করেছেন। এছাড়া প্রথম গোল করেন লোডেইরো ও শেষ গোল আসে আত্মঘাতী থেকে।
তবে এর চেয়েও উত্তেজনার হয়েছে রাতের ম্যাচটি। কোপা আমেরিকায় প্রথমবার আমন্ত্রণ পাওয়া কাতার চমকে দিয়েছে অভিষেক ম্যাচেই। ‘বি’ গ্রুপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ২ গোলে পিছিয়ে থেকেও ২-২ এ ড্র করেছে তারা। জাপানের সঙ্গে এশিয়ার অপর দল হিসেবে কোপায় আমন্ত্রণ পেয়েছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের মতো এ আসরেও নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণে সচেষ্ট ২০২২ বিশ্বকাপ স্বাগতিকরা।
চলতি আসরে সি গ্রুপকে ডেথ গ্রুপ বলা যায়। উরুগুয়ে ছাড়ায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চিলি ও এশিয়ান জায়ান্ট জাপান আছে এই গ্রুপে। তাই প্রথম ম্যাচে ৪ গোলের ব্যবধানে জেতাটা খুব কাজের হয়েছে উরুগুয়ের জন্য। এতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ওঠাই শুধু নয় গোল ব্যবধানেও অনেক এগিয়ে থাকল তারা। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে গোল করে কোপায় প্রথম গোলের স্বাদ পেলেন কাভানি। মোট চারবার কোপায় খেললেও কোনোবার গোল করতে পারেননি। অবশেষে চতুর্থবারে এসে সফল হলেন। প্রথম ম্যাচে গোল করায় আরও গোল পাওয়ার সুযোগ থাকছে এ স্ট্রাইকারের। যা তার ক্যারিয়ারের ৪৭তম গোল। এছাড়া ৪৪ মিনিটে নিজের ৫৭তম আন্তর্জাতিক গোল পেয়েছেন সুয়ারেজ। আর ৬ মিনিটে সুয়ারেজের পাস থেকেই গোলের সূচনা করেন লোডেইরো। প্রথমার্ধেই ৩ গোল হয়ে যাওয়ায় উরুগুয়ের হারের সম্ভাবনা ছিল কম। চাপে পড়ে ইকুয়েডর স্বাভাবিক খেলাও খেলতে পারেনি। তাই ৭৮ মিনিটে নিজেদের ভুলে গোল উপহার দেয় উরুগুয়েকে।
জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ত উরুগুয়ের। কাভানি নিজেই পেয়ে যেতেন দুই গোল। দিন শেষে তা নিয়েই আক্ষেপ ঝরল কাভানির কণ্ঠে, ‘প্রথমার্ধে আমরা বেশ ভালো সুযোগ পেয়েছি। এর সবগুলো কাজে লাগাতে পারলে খুব ভালো হতো। তবে যে সুযোগগুলো কাজে লাগিয়েছি সেটা আমাদের এগিয়ে রেখেছে।’ পরক্ষণেই এ জয়ের নকআউট নিশ্চিত নয় সেটা মনে করিয়ে দিলেন কাভানি। বিশেষ করে গ্রুপটি যে কঠিন সেটাই বললেন কাভানি, ‘সবচেয়ে বড় কথা আমরা জিতেছি। এটা দারুণ স্টেপ। সবাই জানে এ গ্রুপটা কঠিন। এক ম্যাচ জিতেই নকআউটের চিন্তা করা যাবে না। ইকুয়েডরও কঠিন প্রতিপক্ষ। আমরা ম্যাচটিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং প্রথম থেকেই শতভাগ দিয়ে খেলেছি। সব ম্যাচেই আমাদের এই লক্ষ্য থাকবে।’
রিও ডি জেনিরোতে বর্তমান এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন কাতারের শুরুটা হয়েছিল বিভীষিকার মতো। রক্ষণের ভুলে মাত্র ৪ মিনিটেই পেনাল্টি উপহার দেয় প্যারাগুয়েকে। লক্ষ্যভেদ করে করদোহো এগিয়ে দেন দলটিকে। রক্ষণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দলের আক্রমণভাগও ভুলের মাশুল দেয় ১৬ মিনিটে গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে। বিরতির পর ৫৬ মিনিটে গনজালেজ ব্যবধান বাড়ান। তবে ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটে বদলে যায় কাতার। উজ্জীবিত পারফরম্যান্স দিয়ে ৬৮ মিনিটে আলি প্রথম গোল শোধ দেন। পরে ৭৭ মিনিটে আরেক আক্রমণে খোকির শট প্যারাগুয়ের এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বাতাসে উঠে যায়। বল নিজেদের জালে জড়াতে যাচ্ছে দেখে ক্লিয়ার করতে যান রদ্রিগো রোহাস। কিন্তু তার মাথায় লেগে বল জালের ভেতরেই চলে যায়। এতে ১ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটের স্বপ্ন ধরে রেখেছে কাতার। কলম্বিয়ার বিপক্ষে পরের ম্যাচে ভালো করার আত্মবিশ্বাসও নিতে পেরেছে তারা।