২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল কলরেটের ওপর নতুন করে আরোপিত কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। প্রত্যাহার না হলে রাজপথে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে তারা। গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটি এই দাবি জানায়।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে টেলিযোগাযোগ সেবায় ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘যেখানে সেবা খাতে ভর্তুকি দেওয়া হয় সেখানে কলরেটের ক্ষেত্রে প্রতি বছর বাড়তি করারোপ করা হচ্ছে। একদিকে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে চায়। অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ব্যয়ও বৃদ্ধি করতে চায়। এ ধরনের দ্বিমুখী নীতির কারণ আমরা সরকারের কাছে জানতে চাই।’
গত পাঁচ বছরে মোবাইল কলরেটে ছয়বার দাম বাড়ানো হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘গত বছর সর্বনিম্ন কলরেট ২৫ পয়সার স্থলে ৪৫ পয়সা করা হলে এর প্রতিবাদে আমরা আন্দোলন এবং আদালতে রিট পিটিশন করি। তখন আদালত নতুন করে কলরেট বৃদ্ধিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এমতাবস্থায় আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নতুন করে করারোপ করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন ছিল।’
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অপারেটরগুলো তাদের কলরেটে বাড়তি কর যুক্ত করে দিয়েছে। আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমরা গ্রাহকসমাজ এই করারোপের কর দিতে বাধ্য নই। আমরা আদালতের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকব।’
অবিলম্বে নতুন করারোপ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের উচিত আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে নতুন আরোপিত কর প্রত্যাহার করে টেলিযোগাযোগ খাতকে জনকল্যাণমুখী করা এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা পর্যন্ত অপেক্ষা করা। গ্রাহকরা এক পয়সাও অতিরিক্ত দেবে না। তার জন্য প্রয়োজনে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।