পায়ের বাঁধন খুলতে না পারায় পানির নিচে জাদুকরের মৃত্যু

পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গা নদীতে হাত-পা বেঁধে বিপজ্জনক স্টান্ট দেখাতে গিয়েছিলেন জাদুঘর চঞ্চল লাহিড়ি। রোববার দুপুরে নদীতে নামার পর তিনি নিখোঁজ হন।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, সোমবার বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ দুই পা বাঁধা অবস্থায় চঞ্চলের মরদেহ হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাটের কাছে ভাসতে দেখা যায়। পরে স্বজনরা এসে শনাক্ত করে।

তদন্তকারীরা জানান, খেলা দেখাতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় চঞ্চলকে ক্রেনে করে হাওড়া সেতুর নিচে মাঝ গঙ্গায় ফেলে দেন তারই সহকারীরা। জাদু দেখিয়ে হাত-পায়ের বাঁধন খুলে চঞ্চলের নিজেরই উঠে আসার কথা ছিল। কিন্তু প্রবল স্রোতে তলিয়ে যান।

চঞ্চলের ভাইপো রুদ্র প্রসাদ লাহিড়ি ওই দিন বলেন, “কাকা ১৯৯৮ সালে মাঝ গঙ্গায় একই কায়দায় স্টান্ট দেখিয়ে সফল হয়েছিলেন। রোববারও কাকা গঙ্গায় ডোবার পড়ে একবার উঠে এসেছিলেন। কিন্তু তার পরে যে কী হলো কিছুই বুঝতে পারছি না।”

এদিকে কলকাতা পুলিশ জানায়, চঞ্চল লঞ্চে খেলা দেখানোর অনুমতি নিয়েছিলেন। পানিতে নামার অনুমতি ছিল না। এমনকি নিজস্ব ডুবুরি-সহ অন্যান্য সতর্কতামূলক কোনো ব্যবস্থাই ওই জাদুকরের সঙ্গে ছিল না। যা রাখার শর্তেই কলকাতা পুলিশ তাঁকে ‘এনওসি’ দিয়েছিল।

ওই খেলা দেখাতে চঞ্চল তার দল নিয়ে রোববার ক্রেন ও দুটি লঞ্চ নিয়ে জাজেস ঘাট থেকে মাঝ গঙ্গায় পৌঁছান। প্রশ্ন উঠছে- কেন ঘটনাটি গঙ্গায় টহলদারির দায়িত্বে থাকা রিভার ট্র্যাফিক পুলিশের নজরে পড়ল না?