বিনা চিকিৎসায় নির্জন সেলে বন্দি থাকা অবস্থায় মারা গেলেন মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। মামলার শুনানি চলাকালে সোমবার মারা যান দেশটির গণতান্ত্রিকভাবে বিজয়ী প্রথম প্রেসিডেন্ট।
মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়, তার দেহে সাম্প্রতিক সময়ের কোনো ধরনের আঘাত বা অসুবিধার চিহ্ন দেখা যায়নি।
আলজাজিরা জানায়, বন্দি থাকা অবস্থায় চিকিৎসা অবহেলা এবং নিপীড়নের শিকার হতেন মুরসি। এ বিষয়ে বিগত বছরগুলোতে একাধিক রিপোর্ট পাওয়া গেছে।
একাধিক মানবাধিকার সংগঠক দাবি করেছে, মুরসির এ মৃত্যুকে রাজনৈতিক বন্দিদের ওপর সরকারের পদ্ধতিগত নির্যাতন আকারেই দেখা উচিত।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, মুরসির মৃত্যু ‘ভয়াবহ’; কিন্তু এমনটাই ঘটবে সেটা আগ থেকেই অনুমেয় ছিল।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, তার মৃত্যুর দায় নিতে হবে মিসর সরকারকে। মুরসিকে যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিতে বা কারাগারে বন্দি অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে তারা।
মৃত্যুর আগে প্রায় ছয় বছর দিনে ২৩ ঘণ্টা নির্জন সেলে কাটাতে হয়েছে মুরসিকে। শুধু দিনে এক ঘণ্টা হাঁটাহাঁটি করার সুযোগ পেতেন তিনি। এর মধ্যে মাত্র তিনবার তার পরিবারের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পায়।
পরিবার ও মুসলিম ব্রাদারহুডের দাবি, বিনা চিকিৎসায় তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। কারাগারে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিকস, কিডনি ও লিভারজনিত অসুখে ভুগছিলেন যার যথাযথ চিকিৎসা তিনি পাননি।
মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থিত ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টির (এফজেপি) নেতা মুরসি দেশটির গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট।
২০১১ সালে আরব বসন্তের হাত ধরে আসা এক গণ-অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারক পদচ্যুত হন। পরের বছরেই নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসেন মুরসি।
‘তামারুদ’ নামের একটি গোষ্ঠীর মাধ্যমে সাজানো এক বিক্ষোভ আয়োজন করে ২০১৩ সালে সেনাবাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। মুরসির হাতে সেনাপ্রধান হওয়া আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি ক্ষমতায় বসেন।
মুরসিকে গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম ও কাতারের কাছে রাষ্ট্রীয় তথ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি করা হয়। তার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের কাছে তথ্য পাচারেরও অভিযোগ আনা হয়।
গত ২০১৬ সালের জুনে তথ্য পাচারের মামলায় মুরসিকে দোষী সাব্যস্ত করে নিম্ন আদালত। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নথি পাচারের অভিযোগে মুরসিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।