দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দলকে এনে দিয়েছেন রোমাঞ্চকর জয়। বিশ্বকাপ মঞ্চে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরিতে গড়েছেন অনেক কীর্তি। ওডিআই ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের নামের পাশে এখন ঝলমল করছে ৬ হাজারের বেশি রান, আড়াইশোর বেশি উইকেট! সেই সঙ্গে উঠতে শুরু করেছে সেই প্রশ্ন; বাংলাদেশের তারকা এই ক্রিকেটার সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার হতে যাচ্ছেন কি-না? রিচার্ড হ্যাডলি, ইয়ান বোথাম, কপিল দেব, ইমরান খান বা গ্যারি সোবার্সকে পিছনে ফেলে সেরার সেরা অলরাউন্ডারের তকমা কেড়ে নেবেন সাকিব?
ফিরে তাকানো যাক, সেইসব অলরাউন্ডারদের দিকে সর্বকালের সেরা হতে যাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন সময়ের অন্যতম সেরা পারফর্মার সাকিব।
নিউজিল্যান্ডের স্যার রিচার্ড হ্যাডলি; পিচ যেমনই হোক না কেন এই পেসারকে খেলা সত্যিই মুশকিল ছিল। বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান হিসাবে খেললেও বল করতেন ডান হাতে। ৮৬টি টেস্টে ৪৩১ উইকেট নিয়েছেন। লোয়ার অর্ডারে নেমে করেছেন ৩,১২৪ রান। সেরা স্কোর অপরাজিত ১৫১ রান। ওডিআইতে ১১৫ ম্যাচে রয়েছে ১৭৫১ রান, ১৫৮ উইকেট।
ইংল্যান্ডের স্যার ইয়ান বোথাম, ১০২ টেস্টে করেছেন ৫২০০ রান, নিয়েছেন ৩৮৩ উইকেট। ওডিআইতে ১১৬টি ম্যাচ খেলে ২১১৩ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ১৪৫ উইকেট। তার মিডিয়াম পেসে ধরাশায়ী হননি এমন ব্যাটসম্যান কমই আছেন। আর লোয়ার অর্ডারে বোথামের ব্যাটিং দলকে অনেকবার স্মরণীয় জয় এনে দিয়েছে।
ক্রিকেটে অলরাউন্ডারের প্রশ্নে অন্যতম সেরা নাম ভারতের সাবেক অধিনায়ক কপিল দেব। ১৯৮৩ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে দেশকে প্রথমবার বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন কপিল। অলরাউন্ডার হিসাবে বোথাম-ইমরান-হ্যাডলির সঙ্গে একসারিতে নাম উঠত তার। ১৩১ টেস্টে ৫২৪৮ রান ছাড়াও নিয়েছেন ৪৩৪ উইকেট। ২২৫টি ওডিআইতে ৩৭৮৩ রান ছাড়াও তুলে নিয়েছেন ২৫৩ উইকেট। ঝড়ো ব্যাটিংয়ের সঙ্গে আউটসুইংয়ের জন্য নাম কুড়িয়েছিলেন কপিল।
অলরাউন্ডার জগতে আরেক আলোকিত নক্ষত্র পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেটকে অন্য মাত্রা দিয়েছিলেন ইমরান। ১৯৮২ সালে তার নেতৃত্বেই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। ফাস্ট বোলার হিসাবে এই অক্সফোর্ড স্নাতকের ঝুলিতে রয়েছে ১৮২ ওডিআই উইকেট; ব্যাটে অবদান ৩৭০৯ রান। আর ৮৮ টেস্টে করেছেন ৩৮০৭ রান। সঙ্গে নিয়েছেন ৩৬২ উইকেট।
দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস। ব্যাটে-বলে সমান বিধ্বংসী ছিলেন। ১৬৬ টেস্টে ১৩২৮৯ রানের পাহাড়ের সঙ্গে তার ঝুলিতে রয়েছে ২৯২ উইকেট। ৩২৮ ওডিআই খেলে তার মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে তুলে নিয়েছেন ২৭৩ উইকেট। সঙ্গে করেছেন ১১৫৭৯ রান। ২৫টি টি-টোয়েন্টিতে ৬৬৬ রান ছাড়াও ক্যালিসের নামের পাশে রয়েছে ১২ উইকেট।
অনেকের মতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্যার গ্যারি সোবার্সই সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার। ফাস্ট মিডিয়াম-অফস্পিন-লেগব্রেক বোলিংয়ের সব নমুনাই দেখিয়েছেন এই বাঁহাতি। ৯৩ টেস্টে ২৩৫ উইকেট ছাড়া রয়েছে ৮০৩২ রান। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টে করেছিলেন অপরাজিত ৩৬৫ রান। ১৯৯৪ সালে ৩৭৫ রান করে সে রেকর্ড় ভেঙেছিলেন ব্রায়ান লারা।
আইসিসির বর্তমান ওডিআই র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রয়েছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। ২০২ ওডিআইতে করেছেন ৬১০১ রান। বাঁহাতি অর্থডক্স বোলিংয়ে তুলে নিয়েছেন ২৫৪ উইকেট। ৫৫ টেস্টে ৩৮০৭ রানের সঙ্গে রয়েছে ২০৫ উইকেট। আর টি-টোয়েন্টিতে ৭২ ম্যাচে করেছেন ১৪৭১ রান। নিয়েছেন ৮৮ উইকেট।
সাকিবের বয়স এখন ৩২। ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন তিনি। নৈপুণ্য ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশে ক্রিকেটের সবচেয়ে এই উজ্জ্বল নক্ষত্র নিজেকে যে আরো উচ্চতায় নিয়ে যাবেন সহজেই অনুমেয়।