বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের সংখ্যা গতবছর সাত কোটি ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধ, নিপীড়ন এবং সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ােএই মানুষের সংখ্যা ৭০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বুধবার তাদের এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। জেনেভায় ‘গ্লোবাল ট্রেন্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্ডি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত এ মানুষের অর্ধেকই শিশু। ধনী পশ্চিমা দেশগুলো নয় বরং উন্নয়নশীল দেশগুলোই এ বিপুল সংখ্যক শরণার্থীর বোঝা বহন করছে।
ফিলিপো গ্র্যান্ডি বলেন, ‘‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে বৈশ্বিক প্রবণতা ভুল দিকেই যাচ্ছে৷ নতুন করে যুদ্ধ আর সংঘাত বাড়ছে এবং তৈরি করছে নতুন নতুন শরণার্থী৷ যারা আগের শরণার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, অথচ পূর্ববর্তীদের সমস্যার কোনো কিনারা হয়নি৷''
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা সাত কোটি ৮০ লাখে পৌঁছেছে। যা ২০১৭ সালের চেয়ে সংখ্যায় দুই কোটি ৩০ লাখ বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন গড়ে ৩৭ হাজার মানুষ বাড়ি-ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এ সংখ্যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার তুলনায় বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ার কথাও বলছে।
২০১৮ সালে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৭ কোটি ছাড়ালেও প্রকৃত সংখ্যাটা আরো বেশি হবে বলেই জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা।
প্রতিবেদনে কারণ ভেদে গৃহহীনদের তিনটি প্রধান দলে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দলে যুদ্ধ, সংঘাত বা নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালানো মানুষদের রাখা হয়েছে। ২০১৮ সালে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের শরণার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় দুই কোটি ৫৯ লাখ।
দ্বিতীয় দলে আছে আশ্রয়প্রার্থীরা। যারা নিজেদের জন্মভূমি ছেড়ে নানা দেশে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে। তাদের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ।
তৃতীয় দলে আছেন ওই সব গৃহহীন মানুষ যারা বাস্তুচ্যুত হয়ে নিজ নিজ দেশের ভেতরই আশ্রয় নিয়ে আছেন। বিশ্বজুড়ে এ সংখ্যা প্রায় চার কোটি ১৩ লাখ।
বিশ্বজুড়ে এসব শরণার্থীর দুই-তৃতীয়াংশের বেশিই সিরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান, মিয়ানমার ও সোমালিয়া থেকে এসেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের কারণে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান বাড়িঘর ছেড়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।