এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে মেট্রোরেল চায় চসিক

নগরের লালখানবাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে মেট্রোরেল স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেট্রোরেল স্থাপন করা গেলে নগরীর যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের (সিডিএ) সঙ্গে আলোচনায় বসবে চসিক কর্র্তৃপক্ষ।

চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, শহরের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে যুগোপযোগী কিছু প্রকল্প নেওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে নগরের বেশ কিছু সড়ক ও এলাকা ধরে মেট্রোরেল স্থাপনের লক্ষ্যে সমীক্ষা করছে ঢাকার একটি কনসালট্যান্সি ফার্ম। পাশাপাশি নগরের টাইগারপাস থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে মেট্রোরেল স্থাপনে ‘প্রি-ফিজিবিলিটি’ করা হচ্ছে। চসিকের নিয়োগ করা ফার্মটি শহরের বেশ কিছু সড়কে মেট্রোরেল স্থাপনের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চসিকের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এরই মধ্যে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নগরের কালুঘাট থেকে বহদ্দারহাট হয়ে জিইসি, লালখানবাজার হয়ে বিমানবন্দর তথা পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত পর্যন্ত মেট্রোরেল স্থাপন করা গেলে ভালো হতো। কিন্তু বহদ্দারহাট থেকে জিইসি মোড়-লালখানবাজার পর্যন্ত সিডিএ এরই মধ্যে দ্বিতলা বা কোনো কোনো স্থানে তিনতলা পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ করায় মেট্রোরেল করা দুষ্কর হবে। এরপরও বহদ্দারহাট থেকে লালখানবাজার পর্যন্ত বিকল্প পথে মেট্রোরেল স্থাপন করা যায় কি না তা যাছাইয়ের কাজ চলছে। এ ছাড়া লালখানবাজার-পতেঙ্গা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সঙ্গে মেট্রোরেল স্থাপনে সিডিএর আলোচনা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে প্রকল্পটির সঙ্গে মেট্রোরেলের প্রভিশন সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় সাড়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ১১ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সিডিএর এ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। এর মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। এই প্রকল্পের অধীনে গাড়ি ওঠানামার সুবিধার্থে ৯টি পয়েন্টে দুই লেনের ২৪টি র‌্যাম্প নির্মাণের কথা রয়েছে। এর মধ্যে আগ্রাবাদ, টাইগারপাস, সিইপিজেডে চারটি করে; বারিক বিল্ডিং, নিমতলী ও কাস্টমস মোড়, কেইপিজেড, কাঠগড়, পতেঙ্গা সৈকত এলাকায় দুটি করে র‌্যাম্প নির্মাণ করা হবে। র‌্যাম্পগুলোর দৈর্ঘ্য হবে ১২ কিলোমিটার। এক্সপ্রেসওয়েতে থাকবে আড়াই হাজার এলইডি লাইট।

মেট্রোরেল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়ে জানতে চাইলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও সিডিএর প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে ১৮০টি পিলারের পাইলিং হয়েছে। বর্তমানে পিলারের বেইজ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে মেট্রোরেল স্থাপনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে চসিক মেয়রের সঙ্গে সিডিএ চেয়ারম্যানের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।