যাবজ্জীবন সাজা হতে পারে যৌন গুরু রনিয়্যারির

নারীদের যৌন দাসত্বে বাধ্য করা যৌন গোষ্ঠী ‘নেক্সিয়াম’র গুরু কেইথ রনিয়্যারিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি আদালত। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি’র বাংলা সংস্করণের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় দেড় মাস ধরে বিচার কার্যক্রমের পরে এই রায় দেন জুরিরা।

ওই সময় আদালতে ছিলেন ৫৮ বছরের কেইথ রনিয়্যারি। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

রনিয়্যারির বিরুদ্ধে আনা সবগুলো অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে দলগত অপরাধ, যৌনতার জন্য মানব পাচার ও শিশু পর্নোগ্রাফি। এই সব অপরাধের কারণে রনিয়্যারির যাবজ্জীবন সাজা হতে পারে।

আইনস্টাইন ও গান্ধীর সঙ্গে তুলনা করে রনিয়্যারি নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে চালাক’ ব্যক্তি হিসেবে দাবি করতেন। আইনজীবীদের অভিযোগ, তিনি নারীদের মগজ ধোলাই করে দাসী হিসেবে সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করে যৌন মিলনে বাধ্য করতেন।

এদের মধ্যে হলিউড নায়িকা ও মেক্সিকোর সাবেক একজন প্রেসিডেন্টের মেয়ে রয়েছেন- যারা রনিয়্যারির বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

এই গোষ্ঠীর অন্য সদস্যরা অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। সেপ্টেম্বর মাসে রনিয়্যারির সাজা ঘোষণা করা হবে।

‘নেক্সিয়াম’ গোষ্ঠীর মধ্যে পিরামিড আদলে যৌনতার জন্য ‘দাসী ও প্রভু’ জাতীয় একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন রনিয়্যারি। যার ট্যাগ লাইনে বলা হয়, তারা ‘একটি উন্নত পৃথিবী’ গড়ার কাজ করছেন।

আলব্যানি ভিত্তিক দলটি নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে লিখেছে, ‘মানবিক নীতিমালায় পরিচালিত একটি কম্যুনিটি, যারা মানুষকে ক্ষমতাবান করতে চায়।’ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো এবং মধ্য আমেরিকায় ১৬ হাজারের বেশি ব্যক্তি তাদের সঙ্গে যুক্ত।

১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কের আলব্যানিতে প্রথম গ্রুপটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যক্তিগত উন্নয়ন কোম্পানি হিসাবে এর যাত্রা শুরু।

তবে তদন্তকারীরা বলছে, মেনটরিং গ্রুপের আদলে প্রতিষ্ঠিত হলেও আসলে যৌন পাচারকারীদের একটি সংগঠন, যেখানে নারীদের ওপর যৌন নির্যাতন, পর্নোগ্রাফি আর সংঘবদ্ধ অপরাধ ঘটানো হতো।

মামলার সাক্ষীরা বলেন, নেক্সিয়ামের ভেতর ‘ডস’ নামের আলাদা ও গোপন একটি সমাজ তৈরি করেছিলেন রনিয়্যারি। এর 'গ্র্যান্ডমাস্টার' হিসাবে তিনি নারীদের শোষণ ও ব্লাকমেইল করতেন। যাদের মধ্যে ১৫ বছরের এক কিশোরীও ছিল।

এফবিআই বলছে, নিয়োগের সময় এই নারীদের বলা হতো- এটি পুরোপুরি মেয়েদের একটি সংগঠন। তাদের কাছ থেকে স্পর্শকাতর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সেগুলো প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্লাকমেইল করা হতো। যদিও রনিয়্যারির আইনজীবী বলেন, সব যৌনতার ঘটনাই পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে হয়েছে।

এই গোষ্ঠীর সাবেক একজন সদস্য, যাকে আইনজীবীরা ড্যানিয়েলা বলে বর্ণনা করেছেন, তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তার ১৮ বছর বয়স হওয়ার পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাকে নানাভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে, রনিয়্যারি তার কুমারীত্ব নিতে পারে। ১৮ বছর হওয়ার পরে যৌন মিলন করার জন্য রনিয়্যারি তাকে অফিসের একটি গুদাম ঘরে নিয়ে যান।

ড্যানিয়েলার আরেকজন বোনও এই গোষ্ঠীর নেতার যৌন পর্নোগ্রাফির শিকার হয়। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাদের দুই বোনকেই কাল্ট নেতা রনিয়্যারি গ্রুপ সেক্সে বাধ্য করতেন। একপর্যায়ে দুই বোনকে গর্ভপাতে বাধ্য করা হয়।

এই চক্রের সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিলেন রনিয়্যারি, পুরো গ্রুপের একমাত্র পুরুষ সদস্য। ‘দাসী’দের দায়িত্ব ছিল তাদের নিজেদের জন্য আরো ‘দাসীর’ নিয়োগ করা, যারা সবাই আসলে রনিয়্যারির সেবায় কাজ করতো।

এখানে যোগ দিতে হলে নারীদের এমন সব স্পর্শকাতর তথ্য দিতে হতো, যারা তারা প্রকাশ করতে চান না। যার মধ্যে রয়েছে, নিজের বা পরিবারের সদস্যদের গোপন ছবি বা ভিডিও।

এই নারীদের নির্দিষ্ট ডায়েট মেনে চলতে হতো, যাতে তারা শুকনো থাকতে পারেন। তাদের বাড়ির কাজ থেকে রনিয়্যারির যৌন চাহিদা মেটাতে নারীদের প্রস্তুত করার মতো কাজ করতে হতো। অনেক সময় গ্রুপের নারীদের তলপেটের একটি অংশ পুড়িয়ে রনিয়্যারির নামাঙ্কিত চিহ্ন বসিয়ে দেওয়া হতো এবং সেগুলোর ভিডিও করা হতো।