বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকারের মূল পরিচয় এটাই। আন্তর্জাতিক আঙিনায় মাঝেসাঝে স্লো-মিডিয়াম বলও করে থাকেন। অবশ্য ঘরোয়া ক্রিকেটে বলটা নিয়মিতই করেন। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১২৬ ম্যাচে ৪৪ উইকেট আছে তার। টি-টুয়েন্টিতে ১২ আর ফ্লাস্ট ক্লাসে নিয়েছেন ৩৩ উইকেট।
বিশ্বকাপের আগে শেষ হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগে আবাহনীর হয়ে নিয়মিত করেছেন বোলিং। একই দলে জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাও খেলেন। বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে সৌম্যকে প্রস্তুতও করা হয়েছে সেভাবে, যেন দরকার হলে বল করতে পারেন সৌম্য। আবাহনীর শিরোপা জয়ের পথে বোলার সৌম্যরও অবদান ১২ ইনিংসে ১৩ উইকেট।
গতকাল ট্রেন্ট ব্রিজে বল হাতে সুযোগ পেয়েই ব্রেক থ্রু দিয়েছেন ডানহাতি মিডিয়াম পেসার সৌম্য। নিজেসহ নিয়মিত পাঁচ বোলার বল করে কুড়ি ওভারেও অজি ওপেনারদের বিচ্ছিন্ন করতে পারেননি মাশরাফী। বাধ্য হয়েই সৌম্যকে ডাকেন অধিনায়ক। ততক্ষণে রান উঠে গেছে ১১৭। চতুর্থ বলেই তুখোড় ফর্মে থাকা অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকে আউট করে অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন সৌম্য। প্রথম স্পেলে পাঁচ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া সৌম্যকে দ্বিতীয় উইকেট নেওয়াতেও প্রয়োজন পড়ে অধিনায়কের। ৪৪ ওভার শেষে ৩০৯ অস্ট্রেলিয়া। ওয়ার্নার করে ফেলেছেন দেড়শোর ওপর। ওই অবস্থায় নিজেকে সরিয়ে সৌম্যর হাতে বল দেন মাশরাফী। প্রথম বলে ওয়ার্নার বাউন্ডারি মারলেও, ঘণ্টায় ১১৫ কিমি গতিতে করা বলে অজি ওপেনারকে ধোঁকা দেন সৌম্য। শর্ট থার্ড ম্যানে রুবেল ক্যাচ নিয়ে ফিরিয়ে দেন ১৬৬ রান করা ওয়ার্নারকে।
তাকে দিয়ে বল চালিয়ে যান অধিনায়ক। প্রতিদান দিয়েছেন সৌম্য। তার সপ্তম ওভারে রান আউটে কাটা পড়েন ডেঞ্জারম্যান ম্যাক্সওয়েল (১০ বলে ৩২)। দুই বল পর ৮৯ রান করা উসমান খাজাকে উইকেট পেছনের ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন সৌম্য। শেষ পর্যন্ত সৌম্য সরকারের বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড়ায় ৮-০-৫৮-৩।