সংস্কৃতি খাতের বাজেট

বিশেষ বরাদ্দের আশ্বাসেও সংস্কৃতিকর্মীদের অসন্তোষ

সংশোধিত বাজেটে সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ঘোষণা এলেও তাতে সন্তুষ্ট নন সংস্কৃতিকর্মীরা। তাদের দাবি, মূল বাজেটের ১ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে এ খাতে। যার মাধ্যমে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এর আগে সংবাদ সম্মেলন করে ২১ দফা দাবি উত্থাপন করেছিল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

বরাদ্দ নিয়ে সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদের মধ্যেই সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিশেষ বরাদ্দ পাবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৫৭৫ কোটি টাকা। গত বছর প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ৫১০ কোটি, সংশোধিত বাজেট ছিল ৬২৫ কোটি টাকা।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনকেও অনুদান দিতে হবে, তারা যেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে নিজেদের মতো করে অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে পারে। মঞ্চ নির্মাণসহ সারা দেশের সাংস্কৃতিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং দেশজুড়ে সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। জোটের দাবির কথা উল্লেখ করে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, জাতীয় বাজেটের ১ শতাংশ সংস্কৃতিক্ষেত্রে বরাদ্দ, ক্রিয়াশীল সংগঠনের জন্য বার্ষিক অনুদান বর্তমান বাজেটে ১০ কোটি টাকা এবং অসচ্ছল সংস্কৃতিসেবীদের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমি গঠনের পাশাপাশি সেখানে মঞ্চ ও প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের জন্য বরাদ্দ, জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে স্থায়ী প্রশিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান তিনি।

ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সাম্মানিক সভাপতি রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের জন্য একটা বরাদ্দ তো রয়েছেই। সেখান থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পাবে। কিন্তু আমরা সামগ্রিকভাবে সংস্কৃতি খাতের উন্নয়নে নিয়মিত বরাদ্দে মূল বাজেটের ১ শতাংশ চাই। যার মাধ্যমে দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে অনুদান দেওয়া হবে, সংস্কৃতিকর্মীরা সহায়তা পাবেন।’