বিশ্বকাপের মঞ্চে সেঞ্চুরি হলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ঐতিহাসিক সেই সেঞ্চুরিতে মুশফিকুর রহিমের সে কী উল্লাস!
চার বছর আগে মাহমুদউল্লাহ ওই ম্যাচের পরই আরেকটি সেঞ্চুরি করেন। চলমান ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস বিশ্বকাপে ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন সাকিব আল হাসান। এই দুজনের পর এবার বিশ্বকাপে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন মাহমুদউল্লাহর সেদিনের সঙ্গী মুশফিক। বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেললেন ৯৭ বলে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস।
না, মুশফিক নায়ক হতে পারেননি। দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেও তাকে থাকতে হলো পরাজিত দলে। ম্যাচসেরার স্বীকৃতিটা পেলেন ডেভিড ওয়ার্নার। যার ১৬৬ রানের ইনিংসে ৪৮ রানে জয় পেল অস্ট্রেলিয়া।
কিন্তু নটিংহামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচের গল্পে মুশফিকও তো নায়কের মর্যাদা পেতে পারেন। হয়ত ফল পক্ষে আসেনি। কিন্তু তার এই ইনিংসেই কতো কতো রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ। ৩৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ৮ উইকেটে ৩৩৩ রানে থামল টাইগারদের ইনিংস। ওয়ানডে ইতিহাসে যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ।
তাছাড়া এই ম্যাচটা যখন শেষ হতে আর ১০ ওভার বাকি, বাংলাদেশের সামনে ১৩৭ রানের সমীকরণ, তখনও মুশফিকের কারণেই তো আশায় বুক বেঁধেছেন কেউ কেউ। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ জুটি অজি বোলারদেরও যে আতঙ্ক ছড়ায়নি তা কে বলবে।
মাহমুদউল্লাহ ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের আর দুর্গম পথে ছোটা হয়নি। তবে ৯ চার ও ১ ছক্কায় মুশফিক ঠিকই সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন। ইস! মাহমুদউল্লাহ যদি তখন উইকেটে থাকতেন। আর কিছু না হোক, মুশফিকের সেঞ্চুরিতে তিনিও তো পুলকিত হতেন। মুশফিকের মতোই কি আনন্দে শিশুর মতো লাফাতেন মাহমুদউল্লাহ! (সম্পর্কে যে তারা ভাইরা ভাই সেটা তো সবারই জানা)।
মুশফিকের এই ইনিংসের মাহাত্ম আরো এক জায়গায়। ব্যাট হাতে মুশফিক আসরটা শুরু করেছিলেন দারুণভাবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন ৭৮ রানের ইনিংস। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৪ রান আসে তার উইলো থেকে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খলনায়ক হতে হয়েছিল তাকে।
সেটি অবশ্য ব্যাটিংয়ের জন্য নয়। মুশফিকের উইকেটকিপিংয়ের এক ভুলে জীবন পেয়েছিলেন কেন উইলিয়াসমন। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাটেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে হার মানে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের পর মুশফিকের উপর কী ঝড়টাই না বইয়ে গেছে।
কিন্তু মুশফিক ঠিকই নিজেকে সামলে নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এদিনের ইনিংসই যার প্রমাণ দেয়। একজন ব্যাটসম্যান মুশফিকের মনোজগতে ওই ঘটনা তেমন কোনো প্রভাবই ফেলেনি, সেটি এখন বলাই যায়।
লড়াকু মুশফিক আছেন মুশফিকের মতোই। নির্ভরতার প্রতীক হয়ে।