ওয়ার্নারের কৃতজ্ঞতা

বাংলাদেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচে ১৬৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার। যা এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। সেঞ্চুরির পর ওয়ার্নার বলেন, অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আবারও খেলতে পারায় কৃতজ্ঞ তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউন টেস্টে বল ট্যাম্পারিংয়ের দায়ে এক বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞায় ছিলেন এ অজি ব্যাটসম্যান। বিশ্বকাপ দিয়েই আবারও অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরেছেন তিনি।

এক বছরের নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেকেই ভেবেছিলেন ক্যারিয়ার শেষ ‘দি বুলের’। ওয়ার্নারের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কারণে দলের সতীর্থরা তাকে বুল (ষাঁড়) ডাকত। ব্যাটিংয়ে আগের মতোই আগ্রাসী মনোভাব থাকলেও মাঠের বাইরে তিনি এখন বিনয়ী। বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচে ১০ রানে জীবন পেয়েছিলেন। এরপর তার ১৬৬ রানে ভর করে ৩৮১ রানের বড় সংগ্রহ পায় অজিরা। জয়ও পায় ৪৮ রানের। ওয়ার্নার বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে পারায়। আমি শুধু মাঠে যেতে চাই এবং আমি আমার সেরাটা দিতে চাই। আমি চাই আমাকে মনে করা হোক মাঠে ১১০ ভাগ দিয়ে খেলার জন্য।’ বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে হয়েছে নতুন অনেক রেকর্ডও। ম্যাচে দু’দল মিলে করে ৭১৪ রান। যা বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। আগেরটি ছিল ২০১৫ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কা ম্যাচে ৬৮৮ রান। ওয়ার্নার সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১১০ বলে। বলেন, ‘আমি স্লো ব্যাট করতে নামিনি। ফিঞ্চি (অ্যারন ফিঞ্চ) বলছিল উইকেটে টিকে থাক এবং শেষ পর্যন্ত ব্যাট করো।’ নবম বা দশম ওভারের সময়ই নাকি ওয়ার্নারকে এই বার্তা দিয়েছিলেন তার সঙ্গে ওপেনিংয়ে থাকা অধিনায়ক ফিঞ্চ।

চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ পর্যন্ত ছয় ইনিংস শেষে ৮৯.৪০ গড়ে ওয়ার্নার করেছেন ৪৪৭ রান। রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষে তিনি। ক্যারিয়ারের ১৬তম সেঞ্চুরিতে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের পাশে নাম লিখিয়েছেন ওয়ার্নার। ফলে অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে এখন যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক তিনি। এ বিষয়ে বলছিলেন, ‘অবশ্যই এটা ভালো অর্জন (গিলক্রিস্টের সমান ১৬) সেঞ্চুরি করা। কিন্তু আমাদের জন্য মূল ব্যাপারটা ছিল ২ পয়েন্ট অর্জন করা।’