কাশীরাম মরিয়া প্রমাণ করিলেন তিনি মর্গে জীবিত ছিলেন!

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘জীবিত ও মৃত’র একটি বিখ্যাত উক্তি- “কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই”। তবে এবার বাস্তবে ঘটেছে এমনই একটি ঘটনা।

ভারতের মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার একটি হাসপাতালে মৃত ভেবে এক বৃদ্ধকে রাতভর মর্গে রাখা হয়। সকালে ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায় তিনি জীবিত। অবশ্য সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাগরের বীনা এলাকার রাস্তার ধারে অচেতন অবস্থা পড়েছিলেন ৭২ বছরের কাশীরাম। পরে তাকে উদ্ধার করে বীণা সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়ে দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এরপর মর্গে রাখা হয় ওই বৃদ্ধের দেহ। সারারাত মর্গেই ছিল ‘মরদেহটি’।

শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি বের করতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে। দেখা যায়, বেঁচে আছেন ওই বৃদ্ধ। শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার ব্যবস্থা হলেও অবশ্য শেষরক্ষা হয়নি। সকাল সোয়া ১০টার দিকে মারা যান তিনি।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বিক্রম সিং জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় হাসপাতালের এক ডাক্তার ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাঠান। এই সংক্রান্ত একটি নোটও পাঠানো হয়েছিল থানায়। কিন্তু, শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য দেহ নিতে এসে ওই বৃদ্ধকে জীবিত দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। কিছুক্ষণ পরে অবশ্য মৃত্যু হয় তার।

তিনি বলেন, সারারাত বিনা চিকিৎসায় মর্গে পড়ে থাকার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের গাফিলতির জন্যই এটা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জেলা প্রশাসনকে জানানো হবে। তারাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

গাফিলতির কথা স্বীকার করে বীনা হাসপাতালের সিএমও ডা. আর এস রোশন বলেন, “জীবিত মানুষকে মৃত বলে ঘোষণা করা এবং তার চিকিৎসা না করা কর্তব্যরত চিকিৎসকেরই গাফিলতি। তদন্ত চলছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”