চাপ না নিয়ে সতর্ক থাকুক বাংলাদেশ

বলছিলাম, প্রত্যেকটা দলই ভালো। আফগানিস্তান ভারতের বিপক্ষে শনিবার তা প্রমাণ করে ছেড়েছে। ম্যাচটা প্রায় জিতেই গিয়েছিল। শেষটায় হারল অভিজ্ঞতার কাছে। এমন ভালো ‘কামব্যাক’ করেই আজ বাংলাদেশের সামনে দাঁড়াচ্ছে আফগানরা। এটা ওদের জন্য প্লাস পয়েন্ট। মানসিকভাবে এতদিন বিপর্যস্ত ছিল। ভারতের সঙ্গে ওইরকম খেলার পর নিশ্চিতভাবে কিছুটা চাঙ্গা হয়ে উঠবে। বাংলাদেশকে খুব সতর্ক থাকতে হবে এই ম্যাচে। কিন্তু কোনোমতেই চাপ নেওয়া যাবে না।

আফগানিস্তান বিশ্বের সেরা ব্যাটিং লাইনআপকে সাউদাম্পটনের রোজ বোলে ২২৪ রানে আটকাতে পেরেছে। আত্মবিশ্বাস তো ফিরেছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রশিদ খানদের বেদম পিটুনি খাওয়ার পর এভাবে ফেরায়।

আপনাকে মানতেই হবে আফগানদের বোলিং আমাদের চেয়ে ভালো। খেয়াল করে দেখুন ওদের তিন স্পিনার রশিদ খান, মুজিব উর রেহমান ও মোহাম্মদ নবি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নিয়মিত ম্যাচ খেলে। আইপিএলে বিশ্বের সেরাদেরই নেওয়া হয়। ওখানে অনেক বড় খেলোয়াড় বাদ পড়ে। ৩০ ওভার করার বোলার নবি, রশিদ ও মুজিব। আইপিএলে নিয়মিত। তাহলে নিশ্চিতভাবে ওদের বোলিং অনেক শক্ত। ব্যাটিংয়ে যদি আজ আরেকটু ভালো করতে পারে তাহলে খেলাটা খুব মজার হবে।

কিন্তু আমরা মজার খেলার চেয়ে বাংলাদেশের জয়ের খেলা চাইছি। সেমিফাইনাল আমাদের লক্ষ্য। শেষ তিন ম্যাচের প্রতিটি জিততে হবে। তারপরও বাস্তবতা আপনাকে স্বীকার করতে হবে। বারবার একটা কথাই বলি। ১০ দলের প্রত্যেকের শক্তি আছে। কে কখন তা জানান দেবে তাই হলো কথা। আগের দিন শ্রীলঙ্কা, পরের দিন আফগানিস্তান তার জানান দিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজও জয়ের দরজায় গিয়ে হারল। অথচ এদের প্রত্যেকের বিপর্যস্ত থাকার কথা। কোন দিন কে খেলবে কেউ বলতে পারছে না। বিশ্বকাপের সৌন্দর্য ফুটে উঠছে এখানে।

তাই আমাদের সতর্ক থাকা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমাদের সেমিফাইনালে খেলতেই হবে এই ভাবনা মাথায় নিয়ে মাঠে না নামাই ভালো। ওটা ভাবতে থাকলে চাপ কিন্তু আরও বাড়বে। চাই না তবু বলছি। ধরা যাক আফগানদের শুরুটা ভালো হয়ে গেল। তাহলে আমাদের মাথার ভেতর যে সেমিফাইনালের চিন্তা সেটা আরও বেশি চাপে ফেলে দেবে। আমরা ওদের চেয়ে অনেক ভালো দল। সংশয়হীনভাবে। চাপ না নিয়ে সহজাত খেলাটা খেললে আমার মনে হয় না আফগানিস্তানের বিপক্ষে জেতা কঠিন হবে। চাপ নিলেই সমস্যা।

এক দিন বাদেই চেনা মাঠে খেলবে আফগানিস্তান। ভারতের বিপক্ষে রোজ বোলে যেসব ভুল করেছে তা শুধরে নামবে। কিন্তু বাংলাদেশকে এই উইকেট নিয়ে পুরোপুরি নতুন করে পরিকল্পনা করে খেলতে হবে। আফগান বোলারদের অভিজ্ঞতা আছে। ধরা যাক জোরে বল করেছে পরের ম্যাচে আর তা করবে না। কথার কথা, দশটা বল আরও ধীরে হলে ভারতের বিপক্ষে ভালো হতো। এই দশটা ভুল ওরা বাংলাদেশের বিপক্ষে করবে না। এখানে ওরা এগিয়ে। জানে যে ওই উইকেটে কীভাবে বল করতে হবে।

ওটাই আমাদের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ। আমরা যেহেতু ভালো ক্রিকেট খেলছি এখন আমাদের শতভাগ মনোযোগ রাখতে হবে। ভারতের বিপক্ষে ওই উইকেটে যারা ভালো করেছে তারা মানসম্মত স্পিনার। আবার আফগানদের বিপক্ষে ভালো করেছে ভারতীয় পেসাররা। কারণ তারা জোরে বল করে। মোহাম্মদ শামি, জাসপ্রিত বুমরাহসহ আর যারা আছে তারা অর্ডিনারি বোলার না। স্বাভাবিক পেস বোলার হলে অত সহজে উইকেট পেত না হয়তো। মানের কারণেই এক দলে স্পিনার আর অন্য দলে পেসাররা উইকেট পেয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশের নিজেদের নিয়ে ভাবাই ভালো। আর আমাদের মনে হয় এখন উইনিং কম্বিনেশনে ফিরে যাওয়া উচিত। একাদশে অদল-বদল করলে সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাও বলল, সে মোসাদ্দেক হোসেনের অফ স্পিনকে মিস করছে। তাই যে দলের ওপর বেশি বিশ্বাস সেখানে পরিবর্তন এলে কঠিন হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এত বড় ম্যাচ ছিল। সেখানে সাব্বির ভেঙে পড়েছে। রুবেলও তাই। আমাদের তাই মোসাদ্দেক ও সাইফউদ্দিন ফিট থাকলে তাদের একাদশে ফিরিয়ে উইনিং কম্বিনেশন নিয়ে নামাই ভালো।