বিদেশ থেকে আমদানীকৃত ফলে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ঠেকাতে দেশের স্থলবন্দরে কেমিক্যাল টেস্টিং ইউনিট ও ল্যাবরেটরি স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এসব ইউনিটে ফলের রাসায়নিক পরীক্ষা শেষেই কেবল তা দেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর কথা বলা হয়েছে হাইকোর্টের আদেশে।
আগামী দুই মাসের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
খাদ্যে ভেজালকারীদের বিষয়ে হাইকোর্ট বলেন, ‘যারা এসব করবে তাদের শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা নয়, বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিচার হওয়া উচিৎ তাদের বিরুদ্ধে।’
আমসহ মৌসুমি ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক নিয়ে বিএসটিআই’র (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনষ্টিটিউশন) ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনের ওপর ধারবাহিক শুনানিকালে রবিবার এ আদেশ দেন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালতের আদেশে বলা হয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করবে বিএসটিআই, জাতীয় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর।
আদালতে রিটকারী পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। বিএসটিআই’র পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সরকার এম আর হাসান মামুন। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম ফরিদ।
১৮ জুন এক আদেশে হাইকোর্ট মৌসুমি ফলে রাসায়নিক ব্যবহার বন্ধে কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এবং কীভাবে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে এ বিষয়ে পুলিশ ও র্যাবকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল।
রোববার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
ফলসহ যে কোন খাদ্যপণ্যে ভেজাল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শুনানিকালে হাইকোর্ট বলেন, ‘অসৎ ব্যবসায়ীরা যা ইচ্ছা তাই করছে। ফলে কেমিক্যাল মেশাচ্ছে। এতে নিজের সন্তানের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি অন্যের সন্তানেরও ক্ষতি করছে তারা।
একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘গতকাল (শনিবার) জাতীয় সংসদে ঋন খেলাপি ৩০০ জনের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। সেখানেও অসৎ ব্যবসায়ীরা রয়েছেন।’
হাইকোর্ট আরও বলেন, ‘সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্ণতা এনেছে। কিন্তু নিরাপদ খাদ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এদিকে সরকারকে আরও নজর দিতে হবে।’
আদালত বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য এ কারণেই দরকার যে, অনিরাপদ খাদ্যের কারণে ক্যানসার, লিভারের জটিল রোগ বাড়ছে। কারও যদি এসব জটিল রোগ হয় তাহলে চিকিৎসা খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবারকে ভীকিরি হতে হচ্ছে।’