মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ দুটি অঙ্গ কিডনি ও লিভারের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার প্রতিকারে স্টেম সেল চিকিৎসার কার্যকারিতা এরমধ্যে প্রমাণ হচ্ছে। বাংলাদেশে এই চিকিৎসার প্রসার ঘটাতে পারলে কিডনি ও লিভার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন গবেষক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
গতকাল রবিবার রাজধানীর আফতাবনগরে ‘বাংলাদেশ লেজার অ্যান্ড সেল সার্জারি ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হসপিটালে (বিএলসিএস) কিডনি, লিভার ও অটিজমের প্রয়োগ’ শীর্ষক এক সেমিনারে গবেষক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ কথা বলেন।
সেমিনারে দক্ষিণ কোরিয়ার স্টেম সেল বিশেষজ্ঞ ফ্রাঙ্ক হু জিন না বলেন, ‘অকেজো কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা ফেরাতে চিকিৎসা বিজ্ঞানের সর্বাধুনিক আবিষ্কার স্টেম সেল চিকিৎসা পদ্ধতি। স্টেম সেলের প্রয়োগ শরীরের অকেজো রক্তনালি সচল করা, ক্ষত সারানো, ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ু পুনরুজ্জীবিত করা, স্বাস্থ্যকর নাইট্রিক অক্সাইড রিসেপটর ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে।’
সেমিনারে জানানো হয়, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তা ছাড়া সুস্থ কিডনি সংগ্রহ করাও দুরূহ। ডায়ালাইসিস নির্ভরতা কমিয়ে রোগীকে সুস্থ করে তুলতে স্টেম সেল পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়া বর্তমানে দেশের তিন কোটি হেপাটাইটিস ‘বি’ ‘সি’ ও ফ্যাটি লিভারে মতো জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী আছেন। স্টেম সেল চিকিৎসা পদ্ধতি তাদের চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও সেনিমারে জানানো হয়।
সেমিনারে আরও অংশ নেন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সেলিমুর রহমান, বিএলসিএস হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী, কিডনি রোগ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. মো. শহিদুল ইসলাম এবং জাতীয় কিডনি রোগ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ডা. মো. ফিরোজ খান প্রমুখ।