মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধর

রাজধানীর জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে বেদম মারধর করেছেন এক নিরাপত্তাকর্মী। ওই শিক্ষার্থীর পিঠে আঘাতের বড় দাগ দেখা গেছে। গত শনিবার সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম রাকিবুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি ঢাবির যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বাচ্চু বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

মারধরকারী নিরাপত্তাকর্মীর নাম মামুন। বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল রবিবার ঢাবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পক্ষ থেকে মারধরকারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীর মা সবেদা বেগম হাসপাতালের পরিচালকের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে বিচার চেয়েছেন।

সবেদা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘(গত) শনিবার সন্ধ্যায় ছেলের জন্য গরম পানি আনতে বাইরে গিয়েছিলাম। পানি নিয়ে রুমের সামনে এসে দেখি পুলিশ ও লোকজনের ভিড়। ছেলেটি তখন কাঁদছিল। বলছিল, মা তুমি কোথায় নিয়ে এলে। এরা তো বিনা কারণে আমাকে মারছে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলের গায়ে আমি কখনো হাত তুলিনি। স্কুল-কলেজের কোনো শিক্ষকও তাকে মারেনি। অথচ এখানে মার খেয়ে সারাক্ষণই কান্নাকাটি করছে। পরে তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে ঘটনার বিবরণ শুনে তিনি বলেন, ‘আমি বাইরে যাওয়ার পর ছেলে আমার জন্য দরজায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল। এ সময় মামুন নামের ওই দারোয়ান এসে তাকে রুমে যেতে বলেন। ছেলেটি তখন বলে, ‘মা এলে যাব।’ এই কথাটি নাকি উচ্চ স্বরে বলেছিল। এই কারণেই ওই দারোয়ান তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে পিঠে ও কাঁধে বেধড়ক পেটাতে থাকে। তখন তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে দারোয়ানকে নিবৃত্ত করেন।’