ওয়ার্নের মাঠে আফগান স্পিন-জুজু

নিজেদের সপ্তম বিশ্বকাপ ম্যাচে আজ আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সাউদাম্পটনের রোজ বোল স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ৩টায়। সেমিফাইনালের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে এই ম্যাচে জিততেই হবে টাইগারদের। এই ম্যাচটিসহ আরও তিনটি ম্যাচ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দলের হাতে আছে। বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচেই জয় পেলে আর ইংল্যান্ড তাদের তিনটি ম্যাচে হারলে শেষ চারে খেলার স্বপ্নপূরণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। টুর্নামেন্টে এখনো যত ম্যাচ বাকি, সেসব খেলার ফলাফলেও পয়েন্ট টেবিলে ওলট-পালট হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশকে যেটা করতে হবে, তা হলো নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করে রাখা। সেই চ্যালেঞ্জে আজ আফগান বাধা।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ মানে একটা মানসিক লড়াইয়েরও মোকাবিলা করা। তাদের কাছে হারলে জাত যাবে। এমন একটা ভাবনা পুরো বাংলাদেশ দল এবং সমর্থকদের মধ্যে আছে। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের কাছে হারলেই নেতিবাচক কথা হয়, সেখানে আফগানিস্তানের কাছে হেরে বসলে দুর্নামের অশেষ চাপ নিতে হবে। সেই ভাবনাতে দলের মধ্যে পাহাড়সম চাপ চেপে বসে। তাই আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের পাশাপাশি সেই চাপও বাংলাদেশের বড় প্রতিপক্ষ। জিততেই হবে, এই চাপটাই বাংলাদেশ দলের মধ্যে একটা আফগান-জুজু তৈরি করে রেখেছে। এই জুজুতে ওয়ানডেতে আগে সাতবারের মোকাবিলায় বাংলাদেশ তিনবার হেরেছে। দুবার ফতুল্লা আর মিরপুরে। একবার আরব আমিরাতে। তিনবারই টাইগারদের হন্তারক হয়েছে আফগানিস্তানের স্পিন।

আফগানিস্তানের স্পিনশক্তি বিশ্বের অন্যতম সেরা। রশিদ খান এই মুহূর্তে বিশ্বসেরা লেগ স্পিনার। মুজিব উর রেহমানও বেশ রহস্যময়। তিনি নতুন বলে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন। মোহাম্মদ নবি পুরনো এবং নতুন, দুই বলেই ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রেখে উইকেট তুলে নিতে পারেন। তারা কতটা সক্ষম, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে শনিবার একই ভেন্যুতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে। তিনজন ২৯ ওভার বল করে মাত্র ৯৭ রান খরচ করেছেন। মুজিবের ইকোনমি ২.৬০, নবির ৩.৬৬ আর রশিদের ৩.৮০। তিনজনে উইকেট নিয়েছেন চারটি। পার্টটাইম স্পিনার রহমত শাহ পাঁচ ওভার বল করে ২২ রানে নিয়েছেন একটি উইকেট।

ঐতিহ্যগতভাবেই রোজ বোলের পিচ স্পিনবান্ধব। মাঠটি কাউন্টি ক্লাব হ্যাম্পশায়ারের। সর্বকালের সেরা লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন ছিলেন এই ক্লাবের খেলোয়াড়। এখানে বল হাতে তার অনেক কীর্তি আছে। শেন ওয়ার্নের কাছে হ্যাম্পশায়ার এতটাই কৃতজ্ঞ যে, এই অজি লেগ স্পিনারের নামে রোজ বোলে একটি গ্যালারিও আছে। এখানে সব স্পিনারই সুবিধা পান। রশিদ, নবি, মুজিবরা স্পিনের বিপক্ষে দুর্দান্ত প্রতাপশালী ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের যথেষ্ট অসুবিধায় ফেলেছেন। খেলা হবে একই পিচে। পিচ, মাঠের সবকিছুই আফগান স্পিনারদের চেনা। একটা সুবিধা। ব্যবহৃত পিচে খেলা হওয়ার কারণে তা আরও স্পিনবান্ধব হবে। লড়াইটা তাই আফগান স্পিন আর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের কি নাÑ সেই প্রশ্নে বাংলাদেশকে সমীহ করেও নিজেদের শক্তির কথা জানাতে ভুললেন না আফগান অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব, ‘শনিবার নিশ্চয় ভারতের বিপক্ষে আমাদের ম্যাচ দেখেছেন। উইকেটের সুবিধা পেলে বাংলাদেশ কেন, যেকোনো দলের বিপক্ষেই আমাদের স্পিনাররা ভয়ংকর হতে পারেন।’

সাউদাম্পটনের মাঠ যথেষ্ট বড়। ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচে ছক্কা হয়েছে মাত্র দুটি। বাংলাদেশ হেড কোচ স্টিভ রোডসের ভাবনাতেও তাদের স্পিন ভালোভাবেই আছে, ‘রশিদ বেশ ভালো বোলার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মরগান ওকে ভুগিয়েছে। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন। পরের ম্যাচে ঠিকই নিজের জাত চিনিয়েছে। সঙ্গে নবি আর মুজিবও মানসম্পন্ন স্পিনার। এটাও মনে রাখতে হবে, আমাদের ব্যাটসম্যানরা স্পিন উইকেটে খেলে অভ্যস্ত।’ গত কয়েক দিন টাইগার দলের ভেতরে-বাইরে আলোচনার বড় বিষয় অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তিনি চোটের কথা বলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেননি। এমন একটি খবর দেশের একটি পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর এ নিয়ে আলোচনার ঝড় সবখানেই। সেই সাইফউদ্দিন রবিবার দলের অনুশীলনে স্ট্রেচিং, ফিল্ডিং, বোলিং এবং ব্যাটিং সবই করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে সাইফের বিষয়ে প্রশ্ন ছিল অবধারিত। খবরটির সত্যতা কতটুকু? জবাবে রোডস বলেন, ‘খবরটি একেবারেই সত্য নয়। এখন বিশ্বকাপ চলছে। টুর্নামেন্টের মাঝখানে এমন খবর প্রকাশে শুধু ওই খেলোয়াড়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, এরকম কিছু বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যই ক্ষতিকর।’