আদালতে একটি মামলার শুনানি চলাকালে ১৭ জুন মারা যান মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। কারাবন্দি মুরসিকে বিনা চিকিৎসায় হত্যার অভিযোগ এনেছে পরিবার ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
‘তামারুদ’ নামের একটি গোষ্ঠীর মাধ্যমে সাজানো এক বিক্ষোভ আয়োজন করে ২০১৩ সালে সেনাবাহিনী মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন তিনি।
মুরসিকে উৎখাত এবং হত্যার পেছনে শিউরে ওঠার মতো তথ্য দিয়েছেন পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রের জনক হিসেবে পরিচিত ড. আবদুল কাদির খান।
অনেকটা গৃহবন্দি থাকা এই পরমাণু বিজ্ঞানীর ফেসবুক স্ট্যাটাসের বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মিডলইস্ট মনিটর। স্ট্যাটাসে বলা হয়, মুরসিকে উৎখাতে সেনা অভ্যুত্থানের নেপথ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং স্থানীয় এজেন্টরা।
কাদির খান তার ফেসবুকে লিখেন, “প্রেসিডেন্ট মুরসি রাশিয়া, ভারত এবং পাকিস্তান সফর করেছিলেন। কিন্তু অনেকেই এটা জানেন না যে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে মিসরের একটি পরমাণু কেন্দ্র পুনরায় চালু করতে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। একই উদ্দেশে তিনি আরেকটি পরমাণু কেন্দ্র (রিয়েক্টর) স্থাপনের সমঝোতা করেছিলেন, যেটি তিন বছর পরে পেত মিসর।”
তিনি বলেন, “মিসরের বিষয়ে আমার কোনো কিছু না বলাটাই ভালো হতো। কিন্তু প্রেসিডেন্ট মুরসির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মিসরের জনগণের এই সত্যটুকু জানা প্রয়োজন।”
কাদির খান বলেন, “মিসরীয়রা কি জানে এই (রাশিয়া) সফর পশ্চিমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি ভয়ের কারণ ছিল? (পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটি উৎপাদনে আসলে) মিসর থেকে বিদ্যুতের সমস্যা চিরতরে দূর হতো, এমনকি সেই বিদ্যুৎ আফ্রিকা মহাদেশেও রপ্তানি করতে পারত।”
তিনি বলেন, “মিসরীয়দের জানা থাকা উচিত- মুরসির শাসন আমলে মিসর জার্মানি থেকে দুটি সাবমেরিন পেয়েছিল। মিসর যাতে এমন সাবমেরিন না পায় সেজন্য জার্মানিকে চাপ দিয়েছিল ইসরায়েল। মিসরের যথোপযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে এসব সাবমেরিন দিয়ে বিমানবাহী রণতরীতে হামলা করা যেতো।”
জার্মান-মিসর ওই সাবমেরিন কেনাবেচা অনুমোদন করেছেন বলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্বীকার করলে গত মার্চে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তবে ‘রাষ্ট্রীয় গোপনীয় বিষয়’ হওয়ায় তিনি সেটা ওই সময় প্রকাশ করেননি বলে দাবি করেন।
পাকিস্তানের এই পরমাণু বিজ্ঞানী ব্যাখ্যা করে বলেন, কেন মিসরীয়রা নিজেদের একটি সামরিক স্যাটেলাইট থাকার গুরুত্ব বুঝতে পারেনি যা ইসরায়েলের ওপর গোয়েন্দা নজরদারিতে ব্যবহার করা যেতো।
স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের বিষয়ে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন মুরসি। কিন্তু ২০১৩ সালে সেনা অভ্যুত্থানের কারণে সেটা আর সম্ভব হয়নি। অন্যথায় এত দিনে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকত মিসর।
কাদির খান আরও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট মুরসি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বলেছিলেন, মিসরের ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন। এজন্য আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চুক্তি করতে সম্মতও হয়েছিল রাশিয়া।
তিনি জানান, এই চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করতে আল-তারাজ নামের একজন মেজর জেনারেলকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন মুরসি। কিন্তু মিসরের সেনাবাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপে শেষ পর্যন্ত এ চুক্তি সই ব্যর্থ হয়।