‘বৃক্ষমানব’ আবুল বাজানদারের (২৮) হাতে ফের হাতে ফের অস্ত্রোপচার করতে হবে বলে মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্তলাল সেন।
তিনি বলেন, “স্থায়ীভাবে এ রোগ সারানোর সম্ভাবনা কম। হাত স্বাভাবিক রাখতে সারা জীবন অস্ত্রোপচার করতে হবে।”
বিরল রোগে আক্রান্ত আবুল বাজানদারের হাতে ২০১৬ সাল থেকে ঢামেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিন বছরে তার ২৫ বার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কিন্তু তার হাত-পায়ে শেকড়ের মতো শক্ত অংশ ছড়িয়েই যাচ্ছে।
আবুল বাজানদার জানান, তিনি আর এই যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছেন না। ব্যথার কারণে রাতে ঘুমাতে পারেন না। তাই তিনি যন্ত্রণা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে ডাক্তারের কাছে তার হাত কেটে ফেলার অনুরোধ জানিয়েছেন।
২০১৬ সালের জানুয়ারিতে হাত-পায়ে গাছের শিকড়ের মতো শক্ত অতিরিক্ত অংশ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আবুল বাজানদার। দেশে প্রথম এই ধরনের রোগীর চিকিৎসায় পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করে ঢামেক কর্তৃপক্ষ। তার চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্দেশ দেন আবুলের সব খরচ রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করার। এক সময় প্রায় সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। পরে চিকিৎসা শেষ না করেই ২০১৭ সালের ২৬ মে হাসপাতাল ছাড়েন বাজানদার। অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি ভ্যান চালাতেন। কিন্তু এই রোগের কারণে এখন কোনো কাজ করতে পারছেন না।