এরদোয়ানের প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়ে গেছে তুরস্ক?

তুরস্কে ছয় মাস আগেও খুব অল্প মানুষই ইক্রেম ইমামোগলু নামটি শুনেছেন। তিনি ছিলেন ইস্তানবুলের একটি মধ্যম পর্যায়ের জেলা বেলিকডুযুর মেয়র। কিন্তু ইস্তানবুলের মেয়র নির্বাচনের পর এখন তার নাম দেশটির সব মানুষের জানা।

দেশটির ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী’ প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের প্রায় দুই দশকের শাসনের বিপরীতে বিরোধীরা অনেকটা নেতৃত্বহীন বলা চলে। তবে এবার ইমামোগলুকে নিয়ে তারা ফের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন দিয়ে দুই দশক ধরে দেশ শাসন করে আসা এরদোয়ান এখন কোণঠাসা। সম্পর্কের টানাপোড়েনে তার অস্ত্র দিয়েই তাকে ঘায়েল করতে নেমেছে পশ্চিমারা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো রীতিমতো ‘তুর্কি অর্থনীতি’ ধসিয়ে দেওয়ারই ঘোষণা দিয়েছেন।

কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধে পড়েছে তুরস্ক। স্টিলসহ তুর্কি পণ্যে শুল্কারোপ করায় তুর্কি মুদ্রা লিরার দাম পড়ে গেছে ৪০ শতাংশের মতো। মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী। যার প্রভাব পড়েছে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে।

এমন পরিস্থিতিতে ইস্তানবুলের মেয়র নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ও তার ইসলামপন্থী একেপি পার্টিকে বড় ধাক্কা দিয়েছেন ইমামোগলু। তিনি দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ রিপাবলিকান পিপলস পার্টি বা সিএইচপির সদস্য।

বিবিসি বাংলা জানায়, ইমামোগলুর জনপ্রিয়তা মূলত বাড়তে থাকে গত ডিসেম্বরে ইস্তানবুলের মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই। মার্চের শেষে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনেই জিতেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর একেপি পার্টি অনিয়মের অভিযোগ তোলে।

পরে দেশটির নির্বাচনী সংস্থা দেড় কোটি মানুষের শহর ইস্তানবুলে পুনর্নির্বাচনের আদেশ দেয়। পুনর্নির্বাচনে আরও বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ইমামোগলু।

তুর্কি রাজনীতিতে চরম বিভেদ কমিয়ে আনা আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই- এ দুটি বিষয়কে সামনে রেখেই নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন তিনি। অর্থনৈতিক নেতিবাচক সূচক আর ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান পরবর্তী এরদোয়ানের কঠোর অবস্থানও ভোটারদের বিরোধী শিবিরে ঠেলে দেয়।

তুরস্কের ক্ষমতার ভরকেন্দ্র ইস্তানবুল

ইক্রেম ইমামোগলুর জয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর পরে শহরটির নিয়ন্ত্রণ হারাল একে পার্টি। এই শহরেরই সাবেক মেয়র এরদোয়ান দেশটির সরকার চালাচ্ছেন ২০০২ সাল থেকে।

তুরস্কের রাজনীতিতে ইস্তানবুলের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের অর্থনীতিতে শহরটির যা অবদান তা পর্তুগাল, গ্রিস কিংবা মিসরের চেয়েও বেশি।

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছিলেন, “ইস্তানবুল যে জিতবে, তুরস্কও সে জিতবে।”

১৯৯৪ সালে মেয়র হিসেবে এরদোয়ানের আকস্মিক বিজয়ই তাকে জাতীয় রাজনীতিতে বিজয়ের দিকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরে ২০০২ সাল থেকে তুরস্ক শাসন করে আসছেন তিনি।

আগামী ২০২৩ সালে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, এরদোয়ানকে সেই নির্বাচনে ইমামোগলু মোকাবেলা করতে হবে।

ইক্রেম ইমামোগলুর কাছে বিবিসি জানতে চেয়েছিল তিনি নিজেকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চান কি না। জবাবে তিনি হেসে বলেছেন, “আল্লাহ জানেন।”