আফগানিস্তানকে হারিয়ে এখনো স্বপ্নপথের যাত্রী বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালের লক্ষ্যটা অটুট আছে সাকিব আল হাসানের ব্যাট-বলে সওয়ার হয়ে। সেই সাকিবকে বাংলাদেশের ভারতীয় স্পিন কোচ সুনীল যোশি দিয়েছেন নতুন খেতাবÑ ‘মি. কনসিসটেন্ট’। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের ম্যাচসেরা যোশি মনে করেন, ফিটনেসে আমূল পরিবর্তন এনেই আজ সাকিব এ আসরের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা হয়ে জ্বলছেন। আর সাকিব যখন জ্বলেন, তখন তার আলোতে আলোকিত হয় গোটা দল। স্বপ্নদ্রষ্টাই বাংলাদেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবেন ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থাকা যোশির বিশ্বাস।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ৫১ রানের ইনিংসের পর বল হাতে নিয়েছেন ২৯ রানে ৫ উইকেট। তাতেই আফগানিস্তানকে মেনে নিতে হয় ৬২ রানের হার। বাংলাদেশের জয় পাওয়া তিন ম্যাচেই সেরা পারফরমার সাকিব। দলে এমন একজন পারফরমার থাকাটাকে সৌভাগ্যের মনে করেন যোশি।
‘এমন একজন ক্রিকেটারকে দলে পাওয়াটা বাংলাদেশের জন্য গর্বের,’ সোমবার ম্যাচ শেষে বলেন ভারতের হয়ে ১৫টি টেস্ট ও ৬৯টি ওয়ানডে খেলা যোশি। ‘সে আমাদের দলের মি. কনসিসটেন্ট। সেটা তার ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং দিয়ে। সে আসলে এভাবে পাল্টে গেছে ফিটনেসে মনোযোগ দিয়ে। বিশ্বকাপের আগে সে ৫ থেকে ৭ কেজি ওজন কমিয়েছে। যা তার খেলায় দারুণ প্রভাব ফেলেছে। ওর রানিং বিটুইন দ্য উইকেট দেখুন। ভালো খেলার ক্ষুধাটা দেখুন তার মধ্যে কী পরিমাণ। তার উজ্জ্বল উপস্থিতি গোটা দলকেই এগিয়ে নিচ্ছে দারুণভাবে।’
২ জুলাই বাংলাদেশ তাদের অষ্টম ম্যাচ খেলবে প্রবল প্রতিপক্ষ ভারতের বিপক্ষে। এজবাস্টনের সেøা উইকেটে লড়াইটা হবে দু’দলের স্পিনারদের। যোশি মনে করেন, ভারতের ব্যাটসম্যানরা স্পিন ভালো খেলে সত্ত্বেও ভারতীয়দের রুখে দেওয়ার দাওয়াই তার ভালোই জানা। ‘ওদের মতো আমরাও স্পিন ভালো খেলি,’ যোশি বলেন। ‘আমরা প্রমাণ করেছি সাদা বলে আমরা কতটা ভালো দল। আমরা আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দেশ ও দেশের বাইরে হারিয়েছি এবং ভারতের সঙ্গে শেষ তিনটি ম্যাচে দারুণ লড়াই করেছি। ভারতের পক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা থেকেই তাদের সম্পর্কে আমার ভালো ধারণা রয়েছে। আমরা জানি ওদের কীভাবে বল করতে হবে।’
যোশির শেখানো মন্ত্রে ভারতকে হারানোর পথ খুঁজে পাক বাংলাদেশ, সেটাই প্রত্যাশা।