পুলিশের অনুমতি না থাকায় ‘নির্যাতিতদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস'র শোভাযাত্রা করতে পারেনি বিএনপি। পুলিশ নয়া পল্টন এলাকা থেকে তাদের ৮ কর্মীকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে বুধবার সকাল ১০টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বের করার কর্মসূচি ছিল।
মঙ্গলবার রাতে দলটির দপ্তর থেকে শোভাযাত্রার কথা জানিয়ে বলা হয়, এতে সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
জানা গেছে, ১০টায় শোভাযাত্রায় অংশ নিতে বিএনপি নেতাদের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-সচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পরে বেলা ১১টার দিকে বিএনপি'র পক্ষ থেকে শোভাযাত্রার জন্য পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তারা অনুমতি দেয়নি।
শোভাযাত্রার অনুমতি না পেয়ে দুপুর পৌনে ১টার দিকে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন বিএনপি নেতারা।
শোভাযাত্রার অনুমতি না দেওয়ায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশে এই দিবস পালিত হয়েছে। বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। কিন্তু আমাদের এই কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হলো না। বলল, অনুমতি নেই। আমরা অনুমতির চিঠিও পাঠালাম। তারপরও অনুমতি দিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তিনি বলেন, আজ যা ঘটছে, নিপীড়ন, নির্যাতন, উৎপীড়ন, দিনের পর দিন রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। যারা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি, জিএস ছিলেন কেউ পুলিশি নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি।
শোভাযাত্রা ঘিরে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের আটক করেছে এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, নেতাকর্মীদের আটকের ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে অবিলম্বে আটককৃতদের মুক্তি দাবি করছি।
এদিকে পল্টন থানা সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি অফিসের আশপাশ থেকে ৮/১০ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে আটকৃতদের নাম জানা যায়নি।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের সহকারী কমিশনার মিশু বিশ্বাস জানিয়েছেন, শোভাযাত্রার কোনো অনুমতি ছিল না। তাই শোভাযাত্রা করতে দেওয়া হয়নি।