কিছু উন্নয়ন হচ্ছে বিয়ের সময় লাইট লাগানোর মতো: শাহদীন মালিক

কিছু উন্নয়নকে ‘বিয়ের সময় লাইট লাগানোর মতো’ অভিহিত করেছেন আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক।

বুধবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে 'নির্যাতন রোধের দায়-দায়িত্ব' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

২৬ জুন আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবস উপলক্ষে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে। 

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা সবচেয়ে বেশি অধিকারহীনতায় ভুগছি। বাহ্যিক কিছু উন্নয়ন হচ্ছে বিয়ের সময় লাইট লাগানোর মতো। প্রতি সপ্তাহে একনেকের সভা হচ্ছে, কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট পাস হচ্ছে। এসব বিয়ের আলো জ্বালানোর উন্নতি হচ্ছে, অধিকারগুলো সংরক্ষণ হচ্ছে না। আমরা সবাই চাই, উন্নত দেশের কাতারে এই দেশটা যাবে। তবে অধিকার না দিয়ে কোনো সমাজ উন্নতি করতে পারে না। অধিকার না দিলে, ২০৪১ কেন, ২০৬১ সালের মধ্যেও কোনো ধরনের উন্নতি সম্ভব নয়।’

শাহদীন মালিক বলেন, ‘কথা বললেই পরিস্থিতি পাল্টে যাবে বা উন্নত হবে তা নয়। তবে কাজ হবে না বলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে কথা না বললে পরিস্থিতির উন্নতিও হবে না। নির্যাতন প্রতিরোধ করতেই হবে। নয়তো একদিন না একদিন সবাই এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হবে।’

তিনি বলেন, কাউকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য জোর করা যাবে না, যা একটি সাংবিধানিক অধিকার। ম্যাজিস্ট্রেটরা রিমান্ডে দিয়ে প্রতিদিনই সংবিধান লঙ্ঘন করছেন। 

শাহদীন মালিক বলেন, ‘যাকে ধরা হচ্ছে সে কী অপরাধ করেছে, কোথায় টাকা রেখেছে, এগুলো বলতে কাউকে বাধ্য করা যাবে না— এটা বঙ্গবন্ধুর আমলে ১৯৭২ সালের সংবিধানেই আছে।’

আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সদস্য শিরিন হকের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন, আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম, আইনজীবী সারা হোসেন, মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন, র‌্যাবের গুলিতে পা হারানো ঝালকাঠির ছাত্র লিমন হোসেন প্রমুখ।