দেজা ভ্যু ধরে রাখল পাকিস্তান। ১৯৯২ বিশ্বকাপের মতোই এগিয়ে চলা দলটা নিজেদের সপ্তম ম্যাচেও পেল জয়। ঠিক ৯২ এর ইমরান খানের দলের মতো। সরফরাজ আহমেদের দল নিউজিল্যান্ডকে দিল এবারের বিশ্বকাপে প্রথম হারের স্বাদ।
বুধবার বার্মিংহামে কিউইদের ৬ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। দুর্দান্ত শতক হাঁকিয়েছেন বাবর আজম। হারিস সোহেল খেলেছেন আরেকটি অনবদ্য ফিফটি ছোঁয়া ইনিংস। এই দুইয়ের ব্যাটে ভর করে জয় তুলে নেয় ১৯৯২ এর চ্যাম্পিয়নরা। আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২৩৭ রান করেছিল নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তান ৫ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয়।
তবে পাকিস্তান এই জয়ে সেমিফাইনালের পথে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠল। ৭টি করে ম্যাচ খেলেছে দুই দলই, জয় তিনটি করে। আর একটি করে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় ৭ পয়েন্ট উভয়ের। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে পাঁচ নম্বরে আছে বাংলাদেশ। ছয় নম্বরে পাকিস্তান। দুই দলেরই বাকি দুটি করে ম্যাচ। মুখোমুখি লড়াইও বাকি দুই দলের। হয়তো সেই ম্যাচ দুই দলের জন্য হয়ে ওঠতে পারে অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনাল।
এদিকে এ ম্যাচে জয় পেলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতো কিউইদের। কিন্তু অপেক্ষা বাড়ল তাদের। ৭ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রইল কিউইরা।
২৩৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা মোটেও আশা জাগানিয়া ছিল না। দলীয় ১৯ রানেই ফিরে যান ফখর জামান (৯)। আরেক ওপেনার ইমাম-উল-হকও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। দলীয় ৪৪ রানে ফিরেছেন ব্যক্তিগত ১৯ করে।
এরপর আবর আজম ও মোহাম্মদ হাফিজ তৃতীয় উইকেটে ৬৬ রান যোগ করে চাপ সামাল দেন। তবে হাফিজ ৩২ রানের বেশি করতে পারেননি। হারিস সোহেলকে নিয়ে বাবর চতুর্থ উইকেটে গড়েন ১২৬ রানের দারুণ এক জুটি। এই জুটিতেই এক রকম জয় নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের।
জয় থেকে মাত্র দুই রান দূরে থাকতে হারিস সোহেল রান আউট হয়ে ফেরেন। ৭৬ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৬৮ রান করেছেন তিনি। তার আগেই সেঞ্চুরি তুলে নেন বাবর। শেষ পর্যন্ত ১২৭ বলে ১১ চারে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন তিনি।
অধিনায়ক সরফরাজ অপরাজিত ছিলেন ৫ রানে। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ১টি করে উইকেট নিয়েছেন ট্রেন্ট বোল্ট, লকি ফার্গুসন ও কেন উইলিয়ামসন।
এর আগে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২৩৭ রান করে নিউজিল্যান্ড। অথচ শাহিন শাহ আফ্রিদির তোপে মাত্র ৪৬ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল দলটি। জেমস নিশান অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেলে দলের বিপর্যয় এড়িয়েছেন। এ ছাড়া ৬৪ রান করেছেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। কেন উইলিয়ামসনের ব্যাট থেকে এসেছে ৪১ রান।
পাকিস্তানের পক্ষে সর্বাধিক ৩ উইকেট নিয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ আমির ও শাদাব খান।
দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন বাবর আজম।