৪২, ২৫, ২, ২৯, ১০, ৩। সৌম্য সরকারের চলমান বিশ্বকাপের স্কোর। বড় ইনিংস খেলতে পারছেন না। সমস্যাটা কোথায়? ভেবেছেন সৌম্য। বার্মিংহামে সাংবাদিকদের কাছে গতকাল আলাপ করেছেন নানা বিষয় নিয়ে। বিশ্বকাপের আগে দারুণ ফর্মে ছিলেন। নিজের কাছে কি মনে হয় বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দিতে পেরেছেন?
দেখুন, বিশ্বকাপে রান করাটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি যেভাবে আর যত রান করে আউট হয়েছি তাতে আমি খুশি না। তাই বলব, অবশ্যই না। যদি এগুলো বড় করতে পারতাম তাহলে দলের জন্যও ভালো হতো। তবে এখনো তো দুটি ইনিংস আছে। ওগুলোতে ভালো কিছু করার চেষ্টা থাকবে।
আপনি মূলত ওপেনার। আক্রমণাত্মক খেলেন। কিন্তু আফগানিস্তানের সঙ্গে মাঝের দিকে নামতে হয়েছে। তাতে কি মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটেছিল?
না। ব্যাপারটা তা নয়। আমরা তো দলের জন্য খেলি। দল আমাকে ওদিন যেখানে ভালো মনে করেছে নামিয়েছে। হয়তো আমি সফল হতে পারিনি বলে ব্যাপারটা চোখে পড়েছে।
সামনের ম্যাচে হয়তো আপনি আবার ওপেনিংয়ে ফিরে আসবেন। আর আপনি বলেছেন এখন পর্যন্ত আপনি নিজেই সন্তুষ্ট না। সামনের ম্যাচের জন্য কী ওয়ার্কআউট করেছেন?
আমি এখন পর্যন্ত ৩০-৪০-এর ঘরে গিয়ে আউট হয়ে গিয়েছি। ওইটা নিয়ে ভাবছি। আগামী ম্যাচগুলোতে ওখানে গিয়ে প্রয়োজনে সময় নিয়ে ইনিংস বড় করার চেষ্টা করব। তাতে দলের যেমন লাভ হবে নিজেরও ভালো হবে।
আপনার চোখে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে কোনদিকে বেশি এগিয়ে আছে? আর কীভাবে তাদের আটকাতে পারেন?
একটা বড় টুর্নামেন্টে এসে যদি আমরা ভাবি যে প্রতিপক্ষ এগিয়ে আছে তাহলে নিজেরাই পিছিয়ে যাব। আমরা এখানে খেলতে এসেছি, জিততে এসেছি। মান অনুযায়ী স্বাভাবিক খেলা খেলতে পারলে আমরা জিতব।
বাংলাদেশ আর ভারতের মূল পার্থক্য কোথায় দেখেন?
ওরা ভারত আর আমরা বাংলাদেশ এটাই পার্থক্য। বড় টুর্নামেন্টে আপনি নাম ধরে খেলতে গেলে পিছে পড়ে যাবেন। মাঠে যেদিন যে ভালো খেলবে সে জিতবে। তাই আমরা এতকিছু নিয়ে ভাবছি না। আমরা মাঠে শুধু আমাদের পরিকল্পনা কাজে লাগাতে চাই।
ভারতের বোলিং নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?
তাদের দলে বিশ্বের এক নম্বর বোলার আছে। তবে প্রতিদিন তো সবার ভালো যায় না। দেখা যায় আমরা যাকে হিট করব ভেবেছি সে ভালো করছে। তাহলে পরিকল্পনা বদলাতে হবে। আমরা মাঠে অবস্থা বুঝে বোলার বেছে নিয়ে খেলার চেষ্টা করব।
ভারতীয় কোন বোলারকে হুমকি মনে করছেন?
এটা নির্ভর করে উইকেটের ওপর। যদি নতুন উইকেট হয় তাহলে পেসাররা নয়তো পুরনো উইকেটে স্পিনাররা ভালো করে। এটা নিয়ে আলাদা করে ভাবার কিছু নেই।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তান জিতে যাওয়ায় বাংলাদেশের জন্য সমীকরণ সহজ হয়েছে কি না?
দেখুন, আমাদের সামনে দুটি ম্যাচ আছে। আমাদের সেই দুই ম্যাচ জিততে হবে। এটাই আসল কথা। এরপর কী হয় তা দেখা যাবে।
নিজের ব্যাটিংয়ে আসলে কোথায় সমস্যা হচ্ছে বলে মনে হয়?
আমি আসলে ইতিবাচক থেকে খেলার চেষ্টা করি। কিছু সময় হয়। কিছু সময় হয় না। আর আমার চেষ্টা থাকে রান তুলে দিয়ে পরের ব্যাটসম্যানদের খেলা সহজ করে দেওয়া। মানিয়ে নেওয়ার তেমন কিছু নেই। আমার আরও কিছুটা মনোযোগী হয়ে খেলা উচিত।
ব্যাটিং নিয়ে কিছু কাজ করার আছে কি না?
ব্যাটিং এমন একটা জিনিস এটা নিয়ে যত কাজ করব তত ভালো হবে। তাই আমি নিয়মিত স্কিলের পাশাপাশি ফিটনেস বা টেকনিক্যাল দিক নিয়ে কাজ করে থাকি।
মাঝে কি কিছু করছেন?
বড় সুযোগ থাকলে অবশ্যই করতাম। এটা বড় টুর্নামেন্ট। এখানে বিশ্রামেরও প্রয়োজন আছে। তাই সবকিছু মিলেমিশেই করতে হচ্ছে।
বোলিং কতটা উপভোগ করেছেন?
দলের প্রয়োজনে বল করেছি। আর আমি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ থেকে সব জায়গায় বল করেছি। তাই নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল। যেখানে সুযোগ পাব সেখানে নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা থাকবে। শেষ ম্যাচে চেষ্টা করেছি ভালো করার। সামনের খেলায় সুযোগ পেলে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।
সাকিব আল হাসানের ওপর কি বেশি নির্ভরশীলতা তৈরি হচ্ছে না? তার ওপর চাপ কমানো নিয়ে কিছু ভেবেছেন আপনারা?
একটা টুর্নামেন্টে দেখা যায় কোনো একজনের ভালো সময় যায়। তখন তার সঙ্গে বাকিরা পারফরম করলে দলের জন্য ভালো হয়। এখন সাকিব ভাই ভালো টাচে আছেন। এটা ধারাবাহিক হলে দলের জন্য ভালো। আর আমরা আমাদের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।