জলবায়ু বিপর্যয়ের ফলে বিপর্যস্ত পৃথিবীতেও ধনীরা সুখে থাকবে- খোদ জাতিসংঘের পক্ষ থেকেই এমনটা দাবি করা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, ধনীরা জলবায়ু বিপর্যয়ের জন্য বেশির ভাগ দায়ী হলেও তারা বিপর্যস্ত পৃথিবীতে নিজেদের মানিয় নিতে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবে।
জাতিসংঘের চরম দারিদ্র্য ও মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদক ফিলিপ অ্যাস্টন এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
তিনি উষ্ণায়নের ফলে সৃষ্ট বিপর্যয়ের পর দুই শ্রেণির মধ্যে তুলনা করেছেন। যার একটি পরিবর্তিত অবস্থায়ও নিজেদের টিকিয়ে রাখবে, অপর শ্রেণির কোনো উপায় থাকবে না পরিস্থিতি মোকাবিলার।
এর ফলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারও যে তলানিতে গিয়ে পৌঁছাবে সে বিষয়েও জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, যেখানে দরিদ্র জনগোষ্ঠী বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য সামান্যই দায়ী, সেখানে তারাই এর সবচেয়ে বড় শিকার হবে এবং তাদের হাতে টিকে থাকার কোনো উপায় থাকবে না।
তিনি একে 'জলবায়ু বৈষম্য' বলে উল্লেখ করেন।
ফিলিপ অ্যাস্টন বলেন, এ অবস্থায় ধনীরা চরম উষ্ণতা, ক্ষুধা, সংঘাতসহ সব সংকট উতরে যাবে তাদের ক্রয়ক্ষমতা থাকার কারণে।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০১২ সালে যখন হারিকেন স্যান্ডি আঘাত হানে তখন নিউইয়র্কের সাধারণ মানুষ কয়েক দিন বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা সেবা বিচ্ছিন্ন ছিল, যেখানে গোল্ডম্যান স্ন্যাকস-এর প্রধান কার্যালয় তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার বালি বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত ছিল এবং নিজস্ব ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ সুবিধাও ভোগ করে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের তিন দশমিক পাঁচ বিলিয়ন মানুষ মাত্র ১০ ভাগ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। এ ছাড়া এক শতাংশ ধনী ব্যক্তি ১০ ভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তুলনায় ১৭৫ বার বেশি কার্বন ব্যবহার করে।
খবর দ্য ইনডিপেনডেন্ট।