বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণের স্থান মুজিব নগরকে মুক্তিযুদ্ধের তীর্থস্থানে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
শনিবার রাজধানীর বেইলি রোডস্থ অফিসার্স ক্লাবে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১ এর ৫ম জাতীয় কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সকল বধ্যভূমি ও যুদ্ধের স্থানসমূহ সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ এর ভাষণের স্থান, ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মিত্র বাহিনীর দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণার স্থান এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে । একই নকশায় সকল মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবর তৈরি করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি করা হবে।’
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের অবদানের কথা উল্লেখ করে মুক্তযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের অবদান অপরিসীম । স্বাধীনতা চেতনা বিরোধীরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালীন যখন জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদের পুনর্বাসিত করেছে, স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে লাল সবুজ পতাকা তুলে দিয়েছে , সদম্ভে ঘোষণা করেছে এখানে কোন স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়নি, নেই কোনো স্বাধীনতা বিরোধী, সেই সময়ে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের আন্দোলন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে জনমত সৃষ্টিতে অপরিসীম ভূমিকা রেখেছে।
ফোরামের সাবেক সভাপতি এ কে খন্দকারের লিখিত বইয়ে ইতিহাস বিকৃতির ঘটনার বিরোধীতাকে সাহসী পদক্ষেপ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ওটা ছিলো ফরমায়েসি লেখা । এ ধরণের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ফোরাম ভবিষ্যতেও সাহসী ভূমিকা পালন করবে বলে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ কে এম শফিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুন হাবীব, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা মমতাজ বেগম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম প্রমুখ।