বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে চলেছেন সাকিব আল হাসান। কেউ বলছেন, ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন তিনি। সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে এরই মধ্যে নিজের দাবি জানান দিয়ে ফেলেছেন সাকিব, এমনও মন্তব্য অনেক বিশেষজ্ঞের। দুর্দান্ত সাকিবের পারফরম্যান্স নিয়ে বলতে গিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলটের কণ্ঠেও একই রকম মুগ্ধতা। সঙ্গে বিস্ময়ও। তার মতে, ভালো পারফর্ম করা সাকিবের জিনগত অথাৎ সহজাত বৈশিষ্ট্য।
শনিবার দৈনিক দেশ রূপান্তর কার্যালয়ে এসেছিলেন পাইলট। এদিন ‘দৈনিক দেশ রূপান্তর-দ্য গ্রিন লাউঞ্জ’ বিশ্বকাপ ক্রিকেট কুইজ ২০১৯- এর দ্বিতীয় পর্বের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন এক সময়ের এশিয়ার সেরা উইকেটরক্ষক পাইলট। অনুষ্ঠানের ফাঁকে বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনায় অংশ তিনি। বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও টাইগারদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলেন।
এ সময় সাকিব প্রসঙ্গ আসতেই পাইলট শুরুটা করলেন এভাবে, ‘‘সাকিবকে আমি বলব, জিন। জিন বলতে, ও যা চাচ্ছে সেটাই হচ্ছে। অনেকেই বলছে সাকিব অনেক কঠোর পরিশ্রম করছে। বিশ্বকাপে আসলে প্রত্যেকটা খেলোয়াড়, প্রত্যেকটা দলই কঠোর পরিশ্রম করে। এই পরিশ্রমের সঙ্গে কখনো কখনো ভাগ্যটাও দরকার হয়।’’
‘‘ফুটবলের কথাই ধরুন। মেসি বা অন্য যে কেউ, সবাই কঠোর পরিশ্রম করেই আসে। কিন্তু কখনো কখনো একটা দল হিসেবে কেউ যাবে বা একজন খেলোয়াড় বেষ্ট খেলোয়াড় হবে। পুরো বিশ্বকাপে দেখিয়ে দেয় সে কেমন।’’
পাইলট মনে করেন বিশ্বকাপে প্রতি ম্যাচে বাংলাদেশের কাজ অর্ধেকটা করে দিচ্ছেন সাকিব, ‘‘এই বিশ্বকাপে আমার কাছে মনে হয় সাকিব অসাধারণ পারফর্ম করছে। আমরা সাকিবের কাছে যা চাই তার চেয়ে বেশি দিচ্ছে আমাদের। তার পারফরম্যান্সটা বাংলাদেশ দলের পঞ্চাশ শতাংশ কাজ করে দিচ্ছে। সবকিছু মিলে অসাধারণ কন্ট্রিবিউশন।’’
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচে ৪৭৬ রান সাকিবের। ২টি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটি তার। যা তাকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রেখেছে। আর উইকেট নিয়েছেন ১০টি, একবার নিয়েছেন ৫ উইকেট। কপিল দেব এবং যুবরাজ সিংয়ের পর সাকিব তৃতীয় খেলোয়াড়, যার বিশ্বকাপের এক আসরে সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেটের কীর্তি আছে। একই ম্যাচে ফিফটি ও ৫ উইকেটের অনন্য কীর্তিও গড়েছেন সাকিব।
বাংলাদেশের সার্বিক পারফরম্যান্সেও খুশি পাইলট। তার মতে, ‘‘বাংলাদেশ যে ধরনের ক্রিকেট খেলছে, আমার কাছে মনে হয় অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছে। আমাদের যে সুযোগ-সুবিধা, ওভার অল বাংলাদেশের যে অবকাঠামো, সেই হিসেবে আমাদের খেলোয়াড়রা অনেক ভালো পারফর্ম করেছে।’’
এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে ৩ জয় বাংলাদেশের। পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচ থেকে আছে এক পয়েন্ট। সব মিলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনাল বা সুপার ফোরের দৌড়ে ভালোভাবেই টিকে টাইগাররা। পাইলট বিশ্বাস করেন বাংলাদেশের সেই সামর্থ্য আছে।
তবে সেমিফাইনালের জটিল সমীকরণ মেলানোর বিষয়ে পাইলটের চিন্তাটা ভিন্ন, ‘‘আমাদের সুপার ফোরে যাওয়ার সম্ভাবনা কাগজে-কলমে বা অন্য সবভাবেই আছে। তবে একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি মনে করি যে ম্যাচ দুটি আছে, এই ম্যাচ দুটি থেকে ভালোভাবে জয় অর্জন করা। এরপর সুপার ফোরে যাব কি যাব না সেটি গুরুত্বপূর্ণ না। আমি চাই বাংলাদেশ যেন এই বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখে। এমন একটা স্মৃতি যেন গড়ে, পুরো বিশ্ব যেন দেখে যে, বাংলাদেশ দারুণ একটা টুর্নামেন্ট খেলেছে। কপালের কারণে যদি নাও যাই (সেমিফাইনালে) সেটি আলাদা ব্যাপার। কিন্তু ফিনিশিংটা যেন সুন্দর হয়।’’
২ জুন ভারত ও ৫ জুন পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের শেষ দুটি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। বাংলাদেশ দুটি ম্যাচই জিতলে এবং ইংল্যান্ড নিজেদের খেলায় হারলে সেমিফাইনালের টিকিট পাবে বাংলাদেশ।
যেভাবে বিশ্বকাপ এগোচ্ছে তাতে বেশ কিছু জটিল সমীকরণই আছে আসলে। পাইলট মনে করেন, ‘‘ভাগ্য যদি সহায় না হয়, সে ক্ষেত্রে কিছু করার নেই। তবে আমি চাই ভাগ্যও যেন সহায় হয়। এবং আমি এটাও বলব যে সুপার ফোরে যারা যাবে, যে কোনো দলই চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। নট আউট পর্বে যখন যাবে তখন খেলার ধরই আলাদা হয়ে যাবে। যে কোনো দলের ক্ষেত্রেই ওই একটা দিনের ওপর সবকিছু নির্ভর করবে।’’
সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলতে পারলে চ্যাম্পিয়নও হয়ে যেতে পারে বলে বিশ্বাস পাইলটের, ‘‘বাংলাদেশের জন্য খুব ভালো সুযোগ। কিছুটা পয়েন্টের ব্যাপার আছে। বাংলাদেশ যদি সেখানে সফল হয়, তবে আমি মনে করি না বাংলাদেশ থেমে থাকবে। বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ থাকবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফাইনালে খেলবে বলে আমার মনে হয়।’’
সাক্ষাৎকারের ভিডিও: