হলি আর্টিজানে নিহত এসি রবিউলের স্বপ্ন পূরণ হবে কি?

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের কাটিগ্রামের কৃতি সন্তান রবিউল করিম। ৩০তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন তিনি। এরপর তিনি স্বপ্ন দেখেন নিজ গ্রামে হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপন করা।

২০০১ সালে স্থাপনও করেছিলেন বিদ্যালয়টি। তবে ৫ বছরের মাথায় ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি নামের রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় নিহত হন রবিউল করিম। এরপর থেকেই থমকে যায় তার স্বপ্ন।

নিহত হওয়ার সময় রবিউল করিম ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০১ সালে নিজ গ্রামে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপন করেন।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবন্ধী শিশুরা পাঠশালায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বর্তমানে ৪২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বিদ্যালয়ে। আশপাশের গ্রাম থেকে বাক, শ্রবণ প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিশুরা পড়াশুনা করছে। সপ্তাহে ৪ দিন সকাল ৯ থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ক্লাস চলে। খেলাধুলা ও ফিজিয়োথেরাপি দেওয়া হয় নিয়মিত। দুপুরের খাবারও দেওয়া হয় স্কুল থেকেই।

রবিউল করিমের ছোট ভাই শামসুজ্জামান (সামস) বলেন, “ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ভাই থাকতে তিনিই সব খরচ চালাতেন। নিহত হওয়ার পর তার ভাইয়ের বন্ধু এবং বিভিন্ন জনের সহযোগিতায় চলছে বিদ্যালয়টি।”

২০১৯ সালে বিদেশি সংস্থা একটি একতলা ৩ কক্ষ বিশিষ্ট ভবন করে দিলেও আর্থিক সমস্যায় ভুগছে বিদ্যালয়টি। তার ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেন।

প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষায়িত বিদ্যালয় ব্লোমস এর সভাপতি জি আর শওকত আলী বলেন, “বিদ্যালয়ে আসতে ২ কিলোমিটার সড়ক কাঁচা রয়েছে, ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হয়। তাই সড়কটি দ্রুত পাকা করার দাবি করেন।”

রবিউল করিমের স্ত্রী উম্মে সালমা বলেন, “রবিউল চলে যাওয়ার পর আমি খুবই একা হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সরকারের ইচ্ছায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাবার পর আর্থিকভাবে ভালোই আছি। এক কন্যা ও পুত্র সন্তান নিয়ে দিন কেটে যাচ্ছে। কিন্তু ওর স্বপ্ন পূরণ হবে তো? হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রম ও প্রতিবন্ধীদের নিয়ে বিদ্যালয় ছিল ওর স্বপ্ন। বিদ্যালয়টি দেখে যেতে পারলেও এখনও আবাসিক করা যায়নি। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে স্কুলটি হবে আবাসিক। বর্তমানে ৪২ জন শিক্ষার্থীর পড়াশুনা খুব কষ্টে চলছে।”

রবিউল করিমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা করিমন নেছা রবিউল করিমে ছবি বুকে আগলে কান্না করছেন।

বিলাপ করে বলছেন, আমার রবিউল মরতে পারে না। ও বাড়ি আসলে সারা দিন পড়ে থাকত প্রতিবন্ধীদের বিদ্যালয়ে। কিন্তু অর্থের অভাবে স্কুলটি চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বর্তমানে মাসে ৮০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সরকার, গ্রামের মানুষ ওর বন্ধুরা সব খরচ দিচ্ছে। আবাসিক করে স্কুলটি স্বচ্ছভাবে চালাতে পারলে আমার রবিউলের স্বপ্ন পূরণ হত। কিন্তু মৃত্যুর ৩ বছর পরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।