জেলা ও উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা বলতে কিছুই নেই উল্লেখ করে বিএনপির সংদদ সদস্য হারুনুর রশীদ অভিযোগ করেন, চিকিৎসা খাত এখন ভারতীয় বাজারে পরিণত হয়েছে।
রবিবার সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে মঞ্জুরির দাবিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব বলেন।
সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ‘জেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক নেই। জেলা ও উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা বলতে কিছুই নেই। চিকিৎসা খাত এখন ভারতীয় বাজারে পরিণত হয়েছে’।
তিনি বলেন, ‘এখানে উপস্থিত এমপিরা কেউই বাংলাদেশে চিকিৎসা নেন না। সবাই ভারত অথবা সিঙ্গাপুর গিয়ে চিকিৎসা নেন। ডাক্তাররা নিজের পেশার তুলনায় রাজনীতির সঙ্গে বেশি জড়িয়ে গেছেন’।
তার বক্তব্যের পরপরই সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী হারুনুর রশীদের বক্তব্যের জবাব দিতে শুরু করেন। তিনি বলেন, সব দোষ ডাক্তারদের দিলে চলবে না। দু একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে সবাইকে দোষ দেওয়া ঠিক না। টাকা থাকলে মানুষ বিদেশে যায়। অনেকে ইচ্ছা করে যায়, দেশকে অপমান করার জন্য।
একইভাবে জাপার আরেক সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে একটি ছবি দেখিয়ে বলেন, চোখ লাগাচ্ছে আজ আমাদের ডাক্তাররা। চিকিৎসা হয় না, এটা ঠিক নয়। এ সময় চিকিৎসকদের দলীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের জন্য বিএনপিকে দোষারোপ করেন তিনি।
এরপর জাপার আরেক সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু তার বক্তব্যে বলেন, সরকার ভুল ত্রুটি করলে বিরোধী দল ধরিয়ে দেবে। ভালো কাজ করলে প্রশংসা করবে। এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মুজিবুল হক চুন্নু একপর্যায়ে বলেন, যেহেতু আমরা ক্ষমতায় আছি, তাই কাজটি করা উচিত। যদিও জাতীয় পার্টি এই সংসদের প্রধান বিরোধী দল। আগের সংসদে তারা বিরোধী দলের পাশাপাশি ও মন্ত্রিসভায় অংশ নিয়েছিলেন। মজিবুল হক ওই মন্ত্রিসভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে পুরোনো বিতর্ক নতুন করে তুলে ধরেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এ সময় বিএনপির সাংসদদের বক্তব্যের জবাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দেওয়ার আগে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্যরা দিয়ে দিচ্ছেন অভিযোগ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, এমন সংসদে বসেছি যেখানে কে বিরোধী দলের, আর কে সরকারি দলের, তা বোঝার উপায় নেই।