কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

দেড় দশকের সড়ক ভোগান্তি নিরসনে ২শ’ কোটি টাকা প্রাক্কালে ব্যয়ে রাস্তা প্রশস্ত ও মজবুতকরণ নির্মাণ প্রকল্প চলমান। কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ২৮ কি.মি. রাস্তার নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগ। কিন্তু কাজের মান নিয়ে অভিযোগ বিস্তর। যেভাবে রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে তা এখনই ধসে যাচ্ছে যা টেকসই উন্নয়নের অন্তরায়। অবিলম্বে বিদ্যমান ত্রুটি ও অনিয়ম দূর করে মানসম্মত কাজ নিশ্চিতের দাবি ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট মহলের।

বিদ্যমান ত্রুটির সত্যতা জানিয়ে তা নিরসনে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জহুরুল লিমিটেডকে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগ। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউ।

রাস্তার কাজ মানসম্মত ও ত্রুটিমুক্ত নয় জানিয়ে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি সড়কে চলাচলকারীরা বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

বাস চালক আলিম হোসেন বলেন, “একাজে আমরা সন্তুষ্ট নই। আশা করেছিলাম, দীর্ঘদিন পর রাস্তা নতুন হচ্ছে, আর কোনো সমস্যা থাকবে না। যেভাবে রাস্তার কাজ হচ্ছে তা দুইদিন পরেই পূর্বের ভোগান্তিতে পড়তে হবে। একদিনের বৃষ্টিতে বিটুমিন সম্পন্ন রাস্তা ধসে ঢেকে দেওয়া ফাঁকিবাজি বেরিয়ে গেছে।”

স্কুল শিক্ষক সরোয়ার হোসেনের অভিযোগ, “সরকার এতো টাকা খরচ করছে রাস্তা নির্মাণে, অথচ রাস্তা টেকসইয়ের মূল বেসমেন্টেই রয়ে যাচ্ছে গলদ। বৃষ্টিতে রাস্তার দুই পাশে অন্তত শতাধিক জায়গায় ধসে গেছে। এগুলো যাদের দেখার কথা তারা দেখছেন না, বিদ্যমান নির্মাণ ত্রুটি ও অনিয়মের নিরসনই কেবল মানসম্মত কাজের একমাত্র সমাধান বলে দাবি তার।

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ কুষ্টিয়া জেলা সহ-সভাপতি হাজি রবিউল ইসলাম বলেন, “কুষ্টিয়া সড়ক বিভাগের গাফিলতি, ত্রুটি, অনিয়ম বা দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে কোনোভাবেই আমরা জেলাবাসী মুক্ত হতে পারছি না।

তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আশপাশের অন্যান্য জেলার সড়কের গুণগত মানের সঙ্গে তারতম্য তুলে ধরে সরকারের টেকসই উন্নয়নের সঠিক বাস্তবায়ন চান। এজন্য সড়ক নির্মাণে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্ববান হওয়ার পরামর্শ তার।

সড়ক ও জনপথ কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, দুইটি প্যাকেজে যথাক্রমে ৯১ ও ৯৭ কোটি টাকা প্রাক্কালে ব্যয়ে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের ২৮ কি.মি. প্রশস্তকরণ ও মজবুতকরণ চলমান নির্মাণ কাজের রেইন কাট ঠেকাতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতির ঘাটতি থাকায় বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এগুলো ঠিক করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্নে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ২০১৮ সালের মার্চে শুরু হওয়া এই নির্মাণকাজ চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার কথা।