চর ফাউন্ডেশন করার দাবি

প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো না থাকায় চরবাসীর জন্য বরাদ্দ খরচ হয়নি

দেশের চরাঞ্চলের মানুষকে অবহেলিত অভিহিত করে তাদের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ‘চর ফাউন্ডেশন’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেন, চরাঞ্চলে  বসবাসরত এক কোটি মানুষের সার্বিক জীবনমানের উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয়। গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে ডেইলি স্টার ভবনে ‘এসডিজি অর্জনে চর নিয়ে নতুন ভাবনা’ শীর্ষক এক সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা।

বেসরকারি সংস্থা সমুন্নয় ও ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। সম্মানীয় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেনে হলইনস্টেইন ও বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। 

সংলাপে জানানো হয়, দেশের প্রায় ৩২টি জেলার ১০০টি উপজেলার অংশবিশেষ জুড়ে বিস্তৃত চরাঞ্চলে এক কোটি মানুষের বসবাস। দেশের মোট ভূমির ১০ শতাংশ চরভূমি। তীব্র নদীভাঙন, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে এখানকার মানুষকে টিকে থাকতে হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে চর ও হাওরের উন্নয়নে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চরের মানুষের উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো না থাকায় বরাদ্দের এ টাকা চরবাসীর জন্য খরচ হয়নি। এবার চর ও হাওর অঞ্চলের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। তাই চরাঞ্চলবাসীর উন্নয়নে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ‘চর ফাউন্ডেশন’ করা প্রয়োজন।

সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সরকারি বরাদ্দের টাকা খরচ করার জন্য কাঠামো প্রয়োজন। কারণ এ টাকা কোথায়, কীভাবে খরচ হচ্ছে সেটার সুনির্দিষ্ট হিসাব দিতে হয়। চরাঞ্চলের জন্য বাজেটে বরাদ্দ অর্থ খরচ করার জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো করতে হবে। চর ফাউন্ডেশন করা যেতে পারে। তবে এটা যতদিন না হচ্ছে ততদিন পল্লী কর্মসংস্থান ফাউন্ডেশনকে (পিকেএসএফ) তদারকির দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।