বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা না হলে তথ্য সংগ্রহকারীকে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আজ বুধবার থেকে দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা মহানগরীর ১২টি থানার ভোটারদের তথ্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করবে ইসি। এজন্য ৪৩২ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ঢাকা মহানগরীর রমনা, মতিঝিল, পল্লবী, মিরপুর, তেজগাঁও, ধানমণ্ডি, ক্যান্টনমেন্ট, মোহাম্মদপুর, গুলশান, লালবাগ, উত্তরা ও বসুন্ধরা এলাকায় এ তথ্য নেওয়া হবে।
তথ্য সংগ্রহের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা অনেক সময় বাড়িতে যান না এমন অভিযোগের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘বাড়ি বাড়ি যান না, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে এবং সেটা প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতার অভিযোগ আনা হবে। আমাদের নির্বাচনী যে আচরণ বিধিমালা আছে, সেখানে দায়িত্ব পালন না করলে যে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়, সেটার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এটা তো তাকে সাংবিধানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানে দায়িত্ব অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই।’
রাজধানীতে নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেকে তথ্য সংগ্রহকারীদের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেন না। এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘অনেক ভোটার হয়তো ভয়ে দরজা খুলতে চান না। সে ক্ষেত্রে যারা তথ্য সংগ্রহ করতে যাবেন, তাদের একটা আইডি কার্ড (পরিচয়পত্র) দেওয়া হয়। সেটা দেখে অনেকে নিশ্চিত হতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘তথ্য সংগ্রহ করতে কোন এলাকায় যাবেন, সেটা তো আগে থেকেই জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে যারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আছেন বা এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ছাড়াও নানা রকম সংগঠন, ক্লাব, মসজিদ, মন্দিরের সহযোগিতা নেওয়া হয়। এগুলোর মাধ্যমে আমরা প্রচারও করে থাকি। আমার মনে হয়, খুব বড় সমস্যা হবে না।’
সচিব আরও বলেন, ‘তবে এই সুযোগে যাতে কোনো দুষ্কৃতকারী সুবিধা নিতে না পারে, সেজন্য জনগণের কাছে আমি আহ্বান জানাব, তারা নিশ্চিত হয়েই যেন তাদের তথ্য প্রদান করেন।’
এবার ভোটার তালিকা হালনাগাদে যাদের বয়স ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, যাদের জন্ম ২০০২ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, যাদের জন্ম ২০০৩ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে এবং যাদের জন্ম ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘যাদের বয়স ১৮, তাদের তথ্য তো নেবেই, এমনকি যাদের বয়স ১৬ হয়েছে, তাদেরকেও তালিকাভুক্ত করা হবে। তবে তারা ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন না। পরবর্তী দুই বছর পর যখন ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তখন তারা ভোটার হবেন। এভাবে প্রতি বছরই তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ১৮ বছর হলে অটোমেটিক্যালি তারা ভোটার হয়ে যাবেন। ভোটার আইডি কার্ডও পেয়ে যাবেন।’