স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের প্রেম ঠেকাতে আলাদা দিনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহের হাবিবপুর ব্লকের বুলবুলচণ্ডী গিরিজাসুন্দরী বিদ্যামন্দির কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ছাত্রছাত্রীদের কিছু ‘আচরণের’ জেরেই এই সিদ্ধান্ত। তবে এমন সিদ্ধান্তে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
আনন্দবাজার জানায়, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। এর মধ্যে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত এটি শুধু ছাত্রদের স্কুল। তবে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রীরাও পড়ে।
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, একাদশ শ্রেণিতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ২০১। তার মধ্যে ছাত্রী ৪০। দ্বাদশ শ্রেণিতে ২২৬ জন পড়ুয়ার মধ্যে ছাত্রী ৩৫।
শিক্ষকদের একাংশের দাবি, এই দুই ক্লাসে কাগজের টুকরো দেওয়া-নেওয়া চলছে বিস্তর। মেয়েদের কমন রুমের সামনে ছাত্রদের লাইন বা স্কুলের মধ্যে হাতে হাত ধরে হেঁটে যাওয়াও নিয়মিত চোখে পড়ে। শিকেয় উঠেছে পড়াশোনা।
এক শিক্ষিকা বলেন, “নিষেধ করলে ক্লাসের মধ্যে বিড়াল-কুকুরের ডাক ডাকে। এর প্রভাব নিচের ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের ওপরেও পড়ছে।”
এসব আচরণের জন্য ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস সাসপেন্ড থেকে শুরু করে অভিভাবকদের ডেকেও নালিশ জানানো হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। শেষ পর্যন্ত আলাদা দিনে ক্লাসের ব্যবস্থা করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ পাণ্ডে বলেন, “পরীক্ষামূলকভাবে ছাত্রছাত্রীদের সপ্তাহে আলাদা দিনে ক্লাস করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর আচরণের জন্যই এই ব্যবস্থা। তাছাড়া শুনেছি, মালদহের বেশ কিছু স্কুলেই এভাবে পাঠদান হচ্ছে।”
ছাত্রীদের বড় একটি অংশ বলছে, “কিছু ছাত্র স্কুলের মধ্যে উত্ত্যক্ত করত। স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে আমরা খুশি।”
তবে তাদের প্রশ্ন, সপ্তাহে তিন দিন ক্লাস হলে পাঠ্যক্রম শেষ হবে তো? প্রধান শিক্ষক আশ্বাস দিয়ে বলে, “বাড়তি ক্লাস নিয়ে পাঠ্যক্রম শেষ করা হবে।”
তবে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বাগত সেন বলেন, “ছেলেমেয়েরা তো একসঙ্গেই বেড়ে উঠবে। তাই ক্লাস বা দিন আলাদা করে সমস্যা সমাধানের পথ সঠিক নয় বলেই মনে হয়। কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা।”
মালদহ জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) তাপস বিশ্বাস বলেন, “স্কুলে যা-ই ঘটুক, সহশিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র ও ছাত্রীদের আলাদা করা যায় না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”