বড় ক্ষতি হয়ে গেল

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার খুব ভালো একটা সুযোগ আমরা মিস করে ফেললাম। এত উইকেট পড়ার পরও ভারতের বিপক্ষে সাব্বির রহমান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ম্যাচটাকে জেতার কাছে নিয়ে গিয়েছিল। আক্ষেপ, একজন যদি দায়িত্ব নিতে পারত। কিংবা আরেকজন ভালো ব্যাটসম্যান যদি এর আগে থাকত তাহলে এ ম্যাচে জয় আমাদেরই হতো।

মাহমুদউল্লাহ চোটের কারণে খেলতে পারেনি। আর এ ম্যাচে তার অভাবটা খুব টের পেয়েছে বাংলাদেশ দল। তার অভিজ্ঞতা খুব কাজে আসতে পারত। তারপরও দেখেন, একটা সময় জয়ের জন্য ১৮ বলে ৩৬ রান দরকার ছিল। এই সময়ে অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা ও রুবেল হোসেন কিছু বল খেলেছে। একজন ব্যাটসম্যান যদি থাকত তাহলে গল্পটা ভিন্ন হতে পারত না?

এই হারে আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। এই বছর দলটা এমন অভিজ্ঞ ছিল এবং সুযোগও ছিল ভালো। সেমিফাইনালে যেতে পারলে তারপর কী হতে পারত কে জানে। এই দলে খুব অভিজ্ঞ পাঁচজন খেলোয়াড়, মাশরাফী, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ। এর সঙ্গে অন্যদের নিয়ে চমৎকার এক দল আমাদের। এখন আমাদের ২০২৩ বিশ্বকাপের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কে জানে তখন এই অভিজ্ঞদের মধ্যে কে থাকবে না থাকবে।

চার বছর পর ভারতে বিশ্বকাপ। আমাদের চেনা কন্ডিশনে। কিন্তু কথা হলো, বয়স হয়ে গেলে পারফরম্যান্সে এর প্রভাব পড়ে। আমাদের পাঁচ অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের কে কে ততদিন নিজেদের ফিটনেস ও ফর্ম ধরে রাখতে পারবে তা বলা কঠিন। ওই বিশ্বকাপে কে খেলবে না খেলবে এখন বলা কঠিন। কিন্তু এই টুর্নামেন্ট শেষ করে আমাদের আসলে চার বছর পরের বিশ্বকাপের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।

আমাদের দেশে সবসময় একটা টানাপড়েন থাকে ‘এ’ দল নিয়ে। কিন্তু জাতীয় দলে আসার প্রধান মাধ্যম হওয়া উচিত তো ‘এ’ দল। তাই আমি মনে করি, ২০১৯ বিশ্বকাপে যে সুযোগ মিস হলো তা যাতে ভবিষ্যতে মিস না হয় তাই এদিকটায় নজর দেওয়া খুব দরকার। প্রথমত দরকার, লিটন দাস, সাব্বির রহমানের মতো খেলোয়াড়দের আগামী বিশ্বকাপে দায়িত্ব নেওয়ার মতো করে তৈরি করা। ‘এ’ দলের প্রয়োজন তো অনস্বীকার্য।

ধরুন এখন সাকিব ইনজুরিতে পড়ল, আপনি তার রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে কাকে দলে আনবেন? তৈরি আছে কেউ? এমন প্রয়োজনে তৈরি থাকতে ‘এ’ দলের ধারাবাহিক কার্যক্রম জরুরি। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের রিপ্লেসমেন্ট আসা উচিত ‘এ’ দল থেকে। একজন খেলোয়াড় জাতীয় দলে ঢোকার জন্য ওই দলটাতে দুয়েক বছর থেকে নিজেকে প্রস্তুত রাখবে। আর ‘এ’ দল নিয়মিত জিম্বাবুয়ে-কেনিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশে সফর করবে। ব্যাকআপ খেলোয়াড় তৈরি রাখার সব ব্যবস্থা থাকা উচিত।

আরেকটা কথা বলতে চাই। আমাদের ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের পারফরম্যান্স একটা বড় ভূমিকা রাখে কোনো খেলোয়াড়কে জাতীয় দলে বিবেচনা করার জন্য। লিগে খেলার অভিজ্ঞতা আমার অনেক। আর এবার প্রথমবার প্রধান কোচ হিসেবে লিগে কাজ করলাম। আমার কোচিংয়ে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ রানার্সআপ হয়েছে। একটুর জন্য শিরোপা মিস হয়েছে। তো খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা বলছে, ঢাকা লিগ থেকে সত্যিকারের মানের খেলোয়াড় বাছাই করতে হলে উইকেটের দিকে নজর দিতে হবে। ট্রু উইকেট বানানোর বিকল্প নেই। এখন ধরুন কোনো উইকেটে আমরা ১৫০/১৬০ করেও জিতে যাচ্ছি। আবার বিকেএসপির উইকেটে ৩৫০ রান করেও জেতার গ্যারান্টি নেই।

আমি বলতে চাইছি এমন উইকেট তৈরি করতে হবে ঘরোয়া ক্রিকেটে যেখানে বোলাররা সুবিধা পাবে। ব্যাটসম্যানরা শুরুতে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারলে পরে রান করবে, সেঞ্চুরি আসবে। এখন যেমন কিছুটা মান থাকলে একজন খেলোয়াড় বিকেএসপিতে সেঞ্চুরি তুলে আনতে পারে। ওখানকার উইকেট এমনই ফ্লাট। তাতে করে ওই ব্যাটসম্যানেরও কিন্তু ক্ষতি হয়। নিজের সম্পর্কে একটা ভুল ধারণা তার তৈরি হতেই পারে।

তাই বলছি, এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা হয়নি ঠিক আছে। কিন্তু ভবিষ্যতে সেমিতে বা আরেকধাপ ওপরে উঠে শিরোপা লড়াই দিতে চাইলে অবশ্যই ‘এ’ দল নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে হবে। আর খেলোয়াড়দের মান উন্নয়নের জন্য ঢাকা লিগের মতো ঘরোয়া ক্রিকেট ট্রু উইকেট বানিয়ে খেলার এখন সময়ের দাবি।