শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু

‘শেখ হাসিনা ন্যাশনাল বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ সেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা আজ থেকে শুরু হচ্ছে। এটি বিশে^র সবচেয়ে বড় বার্ন অ্যান্ড সার্জারি ইনস্টিটিউট। সেবা কার্যক্রমের উদ্ধোধন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। দগ্ধ রোগীর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্সদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।

ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রথমে পাঁচটি শয্যা নিয়ে বার্ন ইউনিটের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর ধাপে ধাপে তা ১০০ শয্যায় রূপান্তরিত হয়। এখন এটি ৫০০ শয্যার ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বার্ন চিকিৎসার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিল।

রাজধানীর চাঁনখারপুলে ৯১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ দশমিক ৭৬ একর জমিতে নির্মিত ১৮ তলাবিশিষ্ট এই বার্ন ইনস্টিটিউট গত বছর ২৪ অক্টোবরে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই ইনস্টিটিউটে বার্ন ইউনিট, প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট এবং একাডেমিক উইং মিলে তিনটি ব্লক থাকছে। নির্মাণকাজ পরিচালিত হয় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, রোগীর চিকিৎসার জন্য রয়েছে ৫০০ শয্যা। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ২২টি শয্যা রয়েছে। রোগীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য ২২ শয্যাবিশিষ্ট হাই-ডেফিসিয়েন্সি ইউনিট (এইচডিইউ), ১২টি অপারেশন থিয়েটার এবং একটি অত্যাধুনিক পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড আছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগী নিয়ে আসার জন্য ভবনের ছাদে হেলিপ্যাড সুবিধা রাখা হয়েছে। পার্কিংয়ে একসঙ্গে ১৮০টি গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকবে।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশব্যাপী পেট্রলবোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় শতশত মানুষ পেট্রলবোমায় হতাহত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রলবোমায় আহত হয়ে অনেকের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় আনার পথেই। আবার অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হলেও চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে শয্যার তুলনায় কয়েকগুণ রোগী ভর্তি থাকায় সেখানেও সংকুলান করতে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। এ অবস্থায় সরকার দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।