পর্যটকদের মোবাইলে নজরদারি অ্যাপ ঢুকিয়ে দিচ্ছে চীন

চীনা সরকারের নিরাপত্তা নজরদারিতে পড়ছে পর্যটকরাও। জিনজিয়াং প্রদেশে ঘুরতে যাওয়া ব্যক্তিদের মোবাইলে গোপনে নজরদারি বা সার্ভিল্যান্স অ্যাপ ঢুকিয়ে দিচ্ছে সীমান্ত রক্ষীরা। আন্তর্জাতিক একাধিক সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সিএনএন।

খবরটি সত্যি হলে দেশটিতে ব্যাপকভাবে দমন-পীড়নে থাকা অঞ্চলে নজরদারি আরও কড়া হলো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র বিভাগ দাবি করে ২০ লাখের বেশি মুসলিম-সংখ্যাগুরু উইঘুরকে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে।

প্রদেশটিতে সব জায়গায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। নিরাপত্তা ক্যামেরাও নজর রাখছে চারদিকে। ২০১৭ সালে চীন সরকার স্থানীয় বাসিন্দাদের ডিএনএ ও বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহ শুরু করে।

সম্প্রতি গার্ডিয়ান, নিউইয়র্ক টাইমস-সহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমের যৌথ অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই অঞ্চলে ঘুরতে যাওয়া অতিথি ও পর্যটকেরা কড়া নজরদারির মুখে পড়ছে।

সংবাদমাধ্যমগুলো জানান, পার্শ্ববর্তী কিরগিজস্তান থেকে আসা ব্যক্তিদের ফোন আনলক করতে বাধ্য করে সীমান্ত রক্ষীরা। তারপর ফেংচাই নামের একটি অ্যাপ ইনস্টল করিয়ে দেওয়া হয় তাদের মোবাইলে। যাদের মোবাইলে এভাবে জব্দ করা হয়েছে- তাদের অ্যাপ ইনস্টল সম্পর্কিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ওই অ্যাপ মোবাইলের সব মেসেজ, নম্বর তালিকা, ক্যালেন্ডার ও সংরক্ষিত সব তথ্য স্ক্যান করে নিতে পারে। এর মধ্যে ইসলামি চরমপন্থা বিশেষ করে আইএসআইএস প্রচারণার যুক্ত ফাইল ও তিব্বতের আধ্যাত্মিক গুরু দালাই লামার ছবিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।

অ্যাপটি শুধু অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে ইনস্টল করা যায়। অন্যদিকে অ্যাপল ডিভাইসের ক্ষেত্রে ইউএসবি কেবলের সংযোগ দিয়ে কিছু একটা করা হয়। তবে এ সম্পর্কে পরিষ্কার কিছু জানা যায়নি।

এ দিকে এই অ্যাপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে বুধবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সিএনএন’কে বলা হয়, এই ধরনের কিছুর কথা তারা শুনেননি।