৪০ বছর পর দখলমুক্ত হলো নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি সড়ক। নাম মীর জুমলা রোড। নামে সড়ক হলেও ভেতরে প্রবেশ করে বোঝার উপায় ছিল না এটি ব্রিটিশ আমলে তৈরি সরকারি রাস্তা। নগরীর প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু রোড এবং নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা রোডের সংযোগ সড়ক হিসেবে নির্মাণ করা হলেও, স্বাধীনতার পর থেকে এ সড়কে কোনো যান চলাচল করেনি। সড়ক জুড়ে বসানো হতো কাঁচাবাজার ও নিত্যপণ্যের পসরা। সড়কটিকে অনেকে ‘টাকার খনি’ বলেও অবহিত করতেন। কেননা, এ সড়কে দোকানপাট বসিয়ে প্রতিদিন আদায় করা হতো তিন লক্ষাধিক টাকা। মাসে ৯০ লাখ। এ টাকার ভাগ পুলিশ, মাস্তান এমনকি শহরের কয়েকজন প্রভাবশালীর পকেটেও যেত।
নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থাকাকালে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী এ সড়কের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেছিলেন। তারপরও বহাল ছিল অবৈধ দখলদাররা। কোনোভাবেই যখন উচ্ছেদ করা যাচ্ছিল না, তখন একপর্যায়ে শহরের যত ময়লা-আবর্জনা ছিল, তার একাংশ সড়কের ওপর ফেলে রাখা হয়। এতেও কাজ হয়নি। টানা কয়েক বছর এ সড়ক যেন ছিল সিটি করপোরেশনের ভাগাড়। তা সত্ত্বেও আবর্জনার ওপরই বসানো হতো কাঁচাবাজার। সেই বহুল আলোচিত মীর জুমলা সড়কটি গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশীদের নির্দেশে উচ্ছেদ করে পুলিশ। উচ্ছেদের পর শুরু হয় যানবাহন চলাচল।
৪০ বছর পর মীর জুমলা সড়ক যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ঘটনায় জেলা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছে নগরবাসী। এখন নির্বিঘ্নে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করছেন পথচারীরা। কাদা ও পানির সড়কটি দিয়ে পথচারীদের চলাচল করা একেবারেই দুষ্কর ছিল। এখন সড়কটি ফাঁকা। নেই দোকানপাট। এ সড়কে যাতে দোকানপাট বসতে না পারে, সে জন্য পুলিশ টহল দিচ্ছে।
জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ নগরীর মীর জুমলা সড়কটি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ কলেজ, নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল, টিঅ্যান্ডটি অফিস, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালে আসা-যাওয়া করা যায়। এত দিন সড়কটিতে দোকানপাটে ভরপুর থাকায় নগরীর বাসিন্দারা অন্য সড়ক দিয়ে তাদের নির্ধারিত গন্তব্যে যাতায়াত করতেন। এখন গত শুক্রবার থেকে নির্বিঘেœ সড়কটি ব্যবহার করতে পারছেন তারা।