বিদায় বস

 

ক্রিস গেইলের বিশ্বকাপ (২০০৩-’১৯) ক্যারিয়ার

ম্যাচ      ইনিংস    রান       গড়        সেরা      ৫০        ১০০      উইকেট

 ৩৫       ৩৪        ১১৮৬    ৩৫.৯৩  ২১৫      ৬          ২          ১৬

হাশিম আমলা, মহেন্দ্র সিং ধোনি, জেপি ডুমিনি, শোয়েব মালিক, শন মার্শ, রস টেইলর, মোহাম্মদ হাফিজÑ এদের সবার মধ্যে মিল কোথায়? সহজ উত্তরÑ সবাই ব্যাটসম্যান। আর সবাই এই বিশ্বকাপ শেষে অবসর নিতে চলেছেন। এতে দলের কতটুকু ক্ষতি হবে না হবে, বিশ্ব ক্রিকেটের কি খুব বেশি ক্ষতি হবে? তবে একজন ক্রিস গেইল না থাকলে বিশ্বকাপ না শুধু, পুরো ক্রিকেটবিশ্ব মিস করবে তাকে।

অনেক কিংবদন্তি ক্রিকেটারের মতো তার নামের পাশে ভূরি ভূরি ট্রফি নেই। তিনি নেই সেরা রান সংগ্রাহকদের তালিকার শীর্ষেও। বোলিং জানলেও অনেক উইকেট কখনই নিতে পারেননি। অনেক সময় দলকে জেতাতে ব্যর্থও হয়েছেন। তবে একজন ক্রিস গেইল কিংবদন্তি হয়েছেন তার নিজস্ব স্টাইলের জন্য। শুধু নিজ দেশে নয়, আনন্দ বিলিয়েছেন গেইল শহরজুড়ে, দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের দরবারে। গেইলের মতো আর কেউ পারেনি পুরো স্টেডিয়ামকে একসুরে বাঁধতে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে গেইল বিদায় জানালেন বিশ্বকাপকে। ভক্ত-সমর্থকরা আশা করেছিল হেডিংলিতে আবার বেজে উঠবে ক্যারিবিয়ান সুর, যার নেপথ্যের নায়ক গেইল। কিন্তু সুর বেজে ওঠার আগেই এদিন বিদায় নিলেন। বিশ্বকাপে নিজের ৩৫তম ম্যাচে সাজঘরে ফেরেন মাত্র ৭ করে। তাতে গেইলের কতটুকু বা ক্ষতি হয়েছে? আসল দুঃখ তো ঘিরে রইল বিশ্বকাপের মঞ্চকে। এই রঙিন মানুষ যে আর আনন্দে রাঙাবে না বিশ্বকাপ মঞ্চ।

ক্রিকেট মাঠে গেইলের চেয়ে এত সহজভাবে আর কে ছয় মারতে পারে? কেউ না। তার ঠিকঠাক টাইমিং না হওয়া বলও যেন মাঠে থাকতে চায় না। ২০০৯ সালে ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালের এক ম্যাচে গেইল এত বিশাল এক ছয় মেরেছিলেন, বল পৌঁছেছিল প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের ড্রেসিংরুমে। আবার ৩৯ বছর বয়সে এসেও সেই ব্রিজটাউনেই একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মেরেছিলেন আরেকটি বিশাল ছক্কা। এবার বল মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেছে আর গেইলের মুখোমুখি না হওয়ার ইচ্ছায়। ছয় মারায় এতটাই স্বচ্ছন্দ যে, ৩৯ বছরে এসে এক সিরিজেই (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, ঘরের মাঠে) ছয় হাঁকিয়েছিলেন গুনে গুনে ৩৯টি!

স্বঘোষিত বস তো তাই অকপটে বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে সবসময় ছয় মারতে প্রস্তুত। সম্ভবত ৬০ বছর বয়সেও আমি সাধারণভাবে ছয় হাঁকাতে পারব। সবচেয়ে ভালো বোলার এনে দিলেও বলকে সীমানা ছাড়া করব। আর আমি এটাই ভেতর থেকে অনুভব করি। আসলে আমার ছয় মারাটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় আসে। তবে দুশ্চিন্তা ঘিরে থাকবে কিন্তু শরীর নিয়ে। সায় দিলেই হয়।’

৩১ মে ট্রেন্ট ব্রিজে পাকিস্তানের হাসান আলিকে টানা দুই ছক্কা হাঁকিয়ে এবারের বিশ্বকাপে ছয়ের খাতা খোলেন গেইল। এরপর ওকস, আর্চারের বলও পাঠিয়েছেন সীমানার বাইরে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও আছে দুটি। তবে সবচেয়ে বেশি ঝড় বইয়েছেন কিউই বোলারদের ওপর। টানা দুবার দুটি করে মোট ছয়টি। সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপে গেইলের ছক্কা ১২টি। ২৯৭ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সব মিলিয়ে ছক্কা ৩২৬। তার চেয়ে ২৫টি বেশি নিয়ে সামনে শুধু শহিদ আফ্রিদি। তবে পাকিস্তানি অলরাউন্ডারকে খেলতে হয়েছে গেইলের চেয়েও ৯৯ ইনিংস বেশি। আর গেইলের পরের অবস্থানে থাকা রোহিত শর্মার ছক্কা ২৩০টি।

গেইল বিশ্বকাপে আর ১০ রান করতে পারলে উইন্ডিজদের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতে পারতেন। পেছনে পড়ে যেত ক্যারিবীয় রাজপুত্র ব্রায়ান লারার ১০৪০৫। আশার কথা হচ্ছে সেই সম্ভাবনাটি থাকছে। বিশ্বকাপের ঠিক আগে টুর্নামেন্ট শেষে গেইল অবসরের কথা জানালেও, গত সপ্তাহে তা থেকে সরে এসেছেন। খেলবেন আসন্ন ভারত সিরিজও। পাঁচ বছর পর নামতে পারেন সাদা পোশাকের খেলাতেও।

নিশ্চয়ই কোনো স্বপ্ন তাড়া করতে আবার মাঠ চষে বেড়াবেন এই কিংবদন্তি। কারণ স্বপ্নই তো আসল গন্তব্য। বাস্তব-স্বপ্ন আর চেষ্টা কখনই ব্যর্থ হয় না। তাই হাঁটতে কষ্ট হলেও ছয় মারার নেশা নিয়ে আবার দেখা দেবেন ক্রিস গেইল সবুজ ক্যানভাসের ওপর।