লক্ষ্যটা বড় হলেও অসম্ভব নয়। আগে ব্যাট করে বাংলাদেশকে ৩১৬ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে পাকিস্তান। এই বিশ্বকাপেই ৩২২ রান তাড়া করে জিতেছে টাইগাররা। কিন্তু পাকিস্তানের দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপদে ছিল বাংলাদেশ।
জুটি হচ্ছিল না। এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু ব্যক্তিগত ৬৪ রান করে ফিরেছেন তিনিও। ৩২.১ ওভার ১৫৪ রান ৫ উইকেট হারিয় টাইগাররা।
বল হাতে আগুন ঝরাচ্ছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। সাকিবের পর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মাহমুদউল্লাহকে ফিরিয়েছেন। পূরণ করেছেন নিজের ৫ উইকেট। তাতে ১৯৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে শেষে পথে বাংলাদেশের ইনিংস।
শুক্রবার লর্ডসে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ৩১৫ রান করে পাকিস্তান। দুই দলের জন্যই এটি শেষ ম্যাচ।
সৌম্য সরকার ভালো শুরু পেয়েছিলেন। ব্যাটে বলে দারুণ হচ্ছিল তার। কিন্তু ষষ্ঠ ওভারে মোহাম্মদ আমিরের বলে ফখর জামানকে ক্যাচ দেন এই বাঁ-হাতি। ২২ বলে ৪ চারে ২২ রানের ইনিংসের সমাপ্তি তাতে।
তামিম ইকবাল শুরু থেকেই ছিলেন খোলসবন্দী। আগের ম্যাচগুলোর মতো এদিনও ব্যর্থ হলেন। ২১ বলে ৮ রান করেই বিদায় নিলেন। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বোল্ড হন তিনি। ৪৮ রানেই ২ উইকেট হারায় টাইগাররা।
এরপর সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের জুটি গড়ার চেষ্টা। কিন্তু সেই জুটি ৩০ রানের বেশি হলো না। ব্যক্তিগত ১৬ রান করেই ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড হন তিনি।
আশা জাগালেন লিটন দাস। কিন্তু থিতু হয়ে ফিরলেন ৩২ করে। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে ক্যাচ দেন হারিস সোহেলকে। তাতে সাকিবের সঙ্গে তার ৫৮ রানের জুটির অবসান ঘটে।
আর আসরে সপ্তম ফিফটি ছোঁয়া ইনিংস খেলে সাকিব ফেরেন শাহিন শাহ আফ্রিদির শিকার হয়ে। উইকেটের পেছনে ক্যাচ হওয়ার আগে ৭৭ বলে ৬ চারে ৬৪ রান করেছেন এই বাঁ-হাতি।
এর আগে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেট নিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। কাটার মাস্টারের তোপে শুরুর দাপটের পরও পাকিস্তান রানের পাহাড় চড়তে পারেনি। ইমাম-উল-হক সেঞ্চুরি করেছেন। হিট উইকেট হয়ে ফেরার আগে ঠিক ১০০ বলে ১০০ রান করেন। বাবর আজম করেছেন ৯৬ রান।
স্কোর বোর্ডে ৩১৫ রান যোগ করার পর পাকিস্তানের জন্য সেমিফাইনালে খেলার সমীকরণ কঠিন হয়ে পড়ে। ৭ বা তার কম রানে অলআউট করতে হতো টাইগারদের। বাংলাদেশের ৮ রান হতেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে পাকিস্তানের। চতুর্থ ও শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে নিউজিল্যান্ড।