‘বড় হয়ে তুমি কী হতে চাও?’ ‘ইউটিউবার’! আপনার বয়স ৫০ ছাড়িয়ে গেলে কোনো কিশোরের এমন উত্তরে আপনি বিস্মিত হতে পারেন। আপনার বিস্ময় যে পর্যায়েই থাকুক না কেন, আধুনিক বিশ্বের তাতে কিছু আসে-যায় না। এখনকার দিনে ইউটিউবার হতে তরুণ-তরুণীরা দিন-রাত এক করে ফেলছে। কীভাবে একজন সফল ইউটিউবার হওয়া যায়, সেটি জানাচ্ছেন অমৃত মলঙ্গী
স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ। নিজের মেধা নিজের মতো করে পৃথিবীর কাছে প্রমাণ করার সুযোগ। এখানে আপনার বস শুধু আপনি। কেউ কলকাঠি নেড়ে কাজ থেকে আপনাকে দূরে রাখতে পারবে না। যত সুন্দর সুন্দর ভিডিও আপ করবেন, বাড়বে তত আয়ের সুযোগ!
হ্যাঁ, ইউটিউব মানেই এমন এক অপার সম্ভাবনা। আগেকার দিনে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আক্ষেপ করে বলতে হতো, আমার মেধা থাকা সত্ত্বেও কেউ কাজ দেয় না। উপস্থাপক-উপস্থাপিকারা বলতেন, ভালো কথা বলতে পারলেও আমাকে কেউ অনুষ্ঠান দেয় না। প্রযুক্তিবিপ্লবের এই যুগে অমন আক্ষেপ এখন অজুহাতের নামান্তর। এখন কয়েক মিনিটে ইউটিউবে নিজেই একটা চ্যানেল খুলে অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারেন, উপস্থাপনা শুরু করতে পারেন।
যেভাবে চ্যানেল খুলবেন
youtube.com-এ যান। ওপরে ডান পাশে Sign In-এ ক্লিক করে Your Channel দিয়ে Sign In করুন। উপরের দিকে ডান পাশের গোল চ্যানেল আইকনে ক্লিক করে gmail-এ ক্লিক করুন। Use YouTube as বক্স আসবে। দুই শব্দের চ্যানেল নাম হলে তা দুটি ঘরে লিখে ফেলুন। আর দুই শব্দের চ্যানেল নাম না হলে Use a business or other name-এ ক্লিক করে পছন্দমতো চ্যানেল নাম লিখে Create Channel-এ ক্লিক করে চ্যানেল তৈরি করুন। নামের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত। আপনার ভিডিওর বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চ্যানেলের একটি স্বতন্ত্র নাম দিতে পারেন। চ্যানেল ট্যাগ ব্যবহার করুন, যা আপনার চ্যানেলটি খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
একদম ওপরে ডান পাশে Create a video or post-এ (ক্যামেরার ওপর যোগ চিহ্ন দেওয়া আইকন) ক্লিক করলে Upload video এবং এড় ষরাব অপশন পাবেন। এখান থেকে ভিডিও আপলোড করুন। শিডিউল পোস্টও করতে পারেন। ভিডিও টাইটেল, ভিডিও ডেসক্রিপশন, ট্যাগ, থাম্বনেইল ও প্লে লিস্ট যুক্ত করে Publish-এ ক্লিক করে ভিডিও পাবলিশ করুন।
My Channel থেকে Customize Channel-এ ক্লিক করে Channel Icon এবং Channel Art যোগ করুন। Channel Trailer যোগ করুন। হোম পেজ সাজান। প্লে লিস্ট তৈরি করুন।
About-এ ক্লিক করে চ্যানেল ডেসক্রিপশন, ই-মেইল, লোকেশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিঙ্ক যোগ করুন।
Status and Features-এর পাশের Verify অপশনে ক্লিক করে মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে চ্যানেলটি অবশ্যই ভেরিফাই করে নিন।Channel থেকে Branding -এ ক্লিক করে চ্যানেল ব্র্যান্ডিং করুন। Video Manager থেকে End Screen & Annotation যোগ করুন। অহধষুঃরপং থেকে বিভিন্ন তথ্য দেখে নিতে পারেন।
চ্যানেল তৈরি হয়ে গেলে শুরু হবে আপনার আসল কাজ। মেধার খেলা।
কী করতে চান সেটি ঠিক করুন
আপনি কোন বিষয়ের ওপর ভিডিও বানাতে চান সেটি ঠিক করুন। দর্শকেরা সহজে বুঝতে পারেন, সাধারণের চিন্তাধারার সঙ্গে মিলে যায় এমন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ভিডিও বানানো ভালো। তাহলে দ্রুত জনপ্রিয় হওয়া যায়।
ভিডিও বানিয়ে ফোর্বসের তালিকায় নাম ওঠানো ২৪ বছর বয়সী লগান পল ম্যাগাজিনটির সঙ্গে আলাপকালে একবার এভাবে নিজের সফলতার ব্যাখ্যা দেন, ‘আমি চেষ্টা করতাম মানুষের পালস বুঝতে। কাউকে কপি করতাম না। নিজের মতো করে ভিডিও বানাতাম। সবসময় চেষ্টা করেছি সৃজনশীল কিছু করতে।’
কপি পেস্ট করে আপনি আসলে টিকতে পারবেন না। অন্যের ভিডিও এদিক-সেদিক করে পোস্ট করলে আপনার আয় হবে না। গুগল আপনার চ্যানেলটাই বাতিল করে দিতে পারে।
হৃদয়ের কথা শুনুন
নিজের দক্ষতা কীসে, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন। যেদিকে মন টানে সেদিকে যান। সেভাবে স্ক্রিপ্ট লিখে ভিডিও তৈরি করা শুরু করেন। ভিডিও ভালো করে এডিট করে পোস্ট করতে হবে। এজন্য ভালো কম্পিউটার থাকা দরকার। এডিটটাও শেখা দরকার। মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও ধারণ করা যায়, তবে বাজারে টিকে থাকতে হলে একটা ডিজিটাল ক্যামেরা লাগবেই। লাগবে ভালো মানের স্টুডিও।
মানের সঙ্গে আপস নয়
বাংলাদেশে ভালো কনটেন্ট তৈরি করা ইউটিউবার এখনো খুব একটা দেখা যায় না। অনেক তরুণ ভিডিও বানিয়ে ‘তারকা’ খ্যাতি অর্জন করলেও তাদের ভিডিওর সাবজেক্ট এবং মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। ভালো ভিডিও বানাতে তাই নিয়মিত পড়ালেখা করা দরকার। বিখ্যাত পরিচালকদের সিনেমা দেখা উচিত। বাইরের দেশে যারা ভালো ভিডিও বানিয়ে প্রশংসা পাচ্ছেন তাদের কাজ বুঝতে চেষ্টা করা উচিত।
ভিউ বাড়াতে ভিডিওটি পোস্ট করার আগে আকর্ষণীয় শিরোনাম ও থাম্বনেইল যুক্ত করুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে ভিডিওর দর্শকের সংখ্যা (ভিউ) বাড়াতে পারেন। সঠিক ভিডিও ডেসক্রিপশন যোগ করুন। বিভাগ অনুসারে ভিডিওগুলো প্লে লিস্টে সাজান। প্রাসঙ্গিক ভিডিও ট্যাগ ব্যবহার করুন। ট্যাগ রিসার্চে অথবা TubeBuddy অথবা VidIQ-এর মতো টুলগুলো ব্যবহার করতে পারেন। তা ছাড়া আপনি পেইড বুস্টও (বিজ্ঞাপন) করতে পারেন।
আয়
ইউটিউব থেকে আপনি দুইভাবে আয় করতে পারেন। চ্যানেল খোলার পর নির্দিষ্ট একটি ভিউ হওয়ার পর আপনি ইউটিউবের বিজ্ঞাপন পাওয়ার ‘যোগ্য’ বলে বিবেচিত হবেন। তখন আপনার ভিডিওর মাঝে দর্শকরা ছোট ছোট বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন। সেই বিজ্ঞাপন থেকে একটা অংশ ইউটিউব আপনার অ্যাকাউন্টে পাঠাবে।
আরেকটি উপায় আছে স্পন্সর জোগাড় করা। নিজস্ব স্টুডিও ব্যবহার করে আপনি বিভিন্ন পণ্যের রিভিউ দিতে পারেন। প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার আইডিয়া পছন্দ করলে তারা আপনাকে অর্থ দিতে পারে। অনেকেই এভাবে এখন আয় করছেন।