ক্রিকেটের কলঙ্ক

হ্যানসি ক্রনিয়ের মৃত্যু এখনো কাঁদায়। ক্যারিয়ারের ৯৯ টেস্ট খেলেই চলে যেতে হলো ভারতের অভিজাত অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে। ১২ বছর আদালতে লড়ে মুক্তি পেলেন। ঘুষ, জুয়া ও ম্যাচ নির্ধারণের সেই উত্তাল গল্প সাজিয়েছেন ওমর শাহেদ

 

যখন অধিনায়করা খেলায় ঘুষ কী প্রতারণা বিতর্কে যুক্ত হন, ক্রিকেটকে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আহত হয়। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনও আছেন। পরপর তিনটি টেস্ট সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। এই রেকর্ড আর কারো নেই। ১৯৮৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর কলকাতার প্রিয় ইডেন গার্ডেনে প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১১০; ১৯৮৫ সালের ১৩ জানুয়ারি মাদ্রাজের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে ১০৫; পরের বছরের ৩১ জানুয়ারি কানপুরের গ্রিন পার্কে ১২২ করেছিলেন। তখন তার বয়স মাত্র ২১।

ভারতকে তিনি তিনটি বিশ^কাপে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর কোনো ভারতীয় অধিনায়ক আজও সেটি পারেননি। তার রেকর্ড বুক প্রমাণ করে ১৪টি টেস্ট ও ৯০টি একদিনের ক্রিকেটে দেশকে জয় এনে দেওয়া ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান তাদের সর্বকালের অন্যতম সেরা, ক্রিকেটেরও।

আজহারউদ্দিন ১৯৮৫ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ৯৯ টেস্টে ৬,২১৫ রান করেছিলেন। ৩৩৪টি একদিনের খেলায় তার অর্জন ৯৩৭৪ রান। 

এমন আরেকবিশ্বখ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ও সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হ্যানসি ক্রেনিয়ে ৬৮ টেস্টে ৩৬.৪১ গড়ে ৩,৭১৪ রান করেছেন, নিয়েছেন ৪৩টি উইকেট। ১৮৮টি একদিনের খেলায় ৩৮.৬৪ গড়ে তার রান ৫, ৫৬৪। নিয়েছেন ১১৪ উইকেট। নেতৃত্বেও তিনি সেরা ছিলেন।

তবে উজ্জ্বল, ঝলমলে সব বস্তুই স্বর্ণ নয়। আজহার ও ক্রেনিয়ের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ম্যাচ নির্ধারণের অভিযোগ এলো ২০০০ সালে।

আগে থেকে টাকার বিনিময়ে ক্রিকেট ম্যাচ ঠিক করার অভিযোগের শুরু নব্বই সালের শুরুতে। ক্রিকেট ডাকাত ও খেলাটিকে ধ্বংসের চেষ্টায় লিপ্ত খারাপ লোকেরা পিচ সম্পর্কে খবর, ফাইনাল, সেমিফাইনালের ফলাফল আগে থেকে নির্ধারণ করা শুরু করেছিল।

মুম্বাইয়ে পথ হারিয়ে ফেলা যাবে, এমন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় খেলা যখন চলছে, তখন জুয়া ধরা ক্রেতাদের ফোন ম্যাচ ডাকাতরা ফোন এমন দৃশ্য আকছার দেখা গেছে।

এই অভিযোগে ২০০০ সালের ৩ জুন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শেষ একদিনের ম্যাচ খেলে ক্রিকেট দিতে হলো ভারতের অধিনায়ক আজহারকে।

৭ এপ্রিল ২০০০ : দিল্লির পুলিশ দাবি করল, তাদের কাছে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়ক হ্যানসি ক্রনিয়ে ও ভারতীয় ক্রিকেট জুয়াড়ি সঞ্জয় চাওলার টেলিফোন আলাপ আছে। এটি দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট অধিনায়ক ক্রনিয়ের বিপক্ষে ম্যাচ প্রতারণার অভিযোগ দায়েরের প্রধান প্রমাণ হিসেবে কাজ করেছে। আলাপের ভিত্তিতে ক্রনিয়ে ও তার অন্য তিন জাতীয় দলের সহ-খেলোয়াড় হার্শেল গিবস, নিকি বোয়ে ও পিটার স্ট্রাইডোমের বিপক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়। 

৮ এপ্রিল ২০০০ : দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক দি ইউনাইটেড ক্রিকেট বোর্ড অব সাউথ আফ্রিকা (ইউসিবিএসএ) দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটারদের যেকোনো ধরনের খেলা প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত থাকা নিষিদ্ধ করে।

১১ এপ্রিল ২০০০ : ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলি বাখেরের কাছে ‘পুরোপুরি সৎ নন’ স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর হ্যানসি ক্রনিয়েকে জাতীয় দলের অধিনায়ক থেকে বরখাস্ত করা হয়। তিনি স্বীকার করেনÑ ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার (আমাদের টাকায় ৮ লাখ ৪৪ হাজার থেকে ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকারও বেশি) নিয়েছেন। বিনিময়ে খেলার তথ্য ও আগাম ভবিষ্যৎ বিক্রি করেছেন। কাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক করেছেন সেই ২০০০ সালেই ভারত সফরে। তবে তিনি এও দাবি করেন, ম্যাচ প্রতারণার সঙ্গে তিনি যুক্ত নন।

২৮ এপ্রিল ২০০০ : সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (সিবিআই) ভারত সরকার ম্যাচ প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণ এবং ভারতের কোনো ক্রিকেট খেলোয়াড় বা বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী পাতানো খেলার সঙ্গে যুক্ত কি না তদন্ত করে প্রমাণের জন্য নিযুক্ত করে।

৭ জুন ২০০০ : দক্ষিণ আফ্রিকার দ্য কিং কমিশন হ্যানসি ক্রনিয়ের মামলাটির তদন্ত শুরু করে। দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড় প্যাট সিমন্স, হার্শেল গিবস, হেনরি উইলিয়ামস ও স্ট্রাইডোম কমিশনের আদালতে আসেন। তারা জেরার মুখে স্বীকার করেন, দলনেতা হ্যানসি ক্রনিয়ের কাছ থেকে ভারত সফরের সময় অনেকগুলো খেলায় খারাপ খেলার জন্য টাকা গ্রহণের অবৈধ প্রস্তাব পেয়েছিলেন।

১৫ জুন ২০০০ : বিখ্যাত দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট খেলোয়াড় ও সাবেক অধিনায়ক হ্যানসি ক্রনিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। তাতে তিনি আগে থেকেই ক্রিকেট খেলা নির্ধারণ করা হয়েছিল সেটি প্রকাশিত হয়। কিং কমিশনের সামনে উপস্থিত হয়ে ৫৩টি টেস্ট ম্যাচের ২৩টিতে জয়ী এই রেকর্ডধারী অধিনায়ক বোমা ফাটাস। কিংবদন্তি অধিনায়ক ও ক্রিকেটার বলেন, ভারতের অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন তাকে একজন ম্যাচ জুয়াড়ির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। যিনি তাকে চার বছর আগে ১৯৯৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ভারত সফরের সময় একটি ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার জন্য টাকা নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে আজহার সেই কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেন।

সিবিআই দিল্লির জুয়াড়ি মুকেশ গুপ্তকে (অন্ধকারে জন বা এমকে)। গ্রেফতার করে। তিনি ভারতের বিখ্যাত ক্রিকেটার অজয় জাদেজাকে দিনে ৭০টি ফোন করতেন বলে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান সংবাদ প্রকাশ করে। 

সিবিআইকে এই অপরাধে সবচেয়ে বড় ‘ব্রেক’ দেন মুকেশই। তিনি স্বর্ণ-গহনা কেনাবেচার কাজ করেন। পেশার বাইরে ভারত ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনের অনেক বিখ্যাত খেলোয়াড়ের ঘনিষ্ঠ। তিনি এতই দাগী যখন ম্যাচ আগে থেকে নির্ধারণের অভিযোগ এলো, তখন থেকেই ভারতের পুলিশ তাকে সন্দেহ করেছে।

২০০০ সালের মধ্য জুন থেকে এই পূর্বানুমান আসতে শুরু করল যে, মুকেশ ভারত থেকে পালিয়ে যেতে পারেন। ফলে তার প্রতি দেশের প্রতিটি আদালত নজর রাখতে শুরু করল। এ অবস্থায় সিবিআই যখন তার পেছনে লেগেছে এবং পুলিশ তার প্রতি প্রবল নজর রাখতে শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত অলরাউন্ডার ক্রিকেটার ও অধিনায়ক হ্যানসি ক্রনিয়ে গুপ্তর বিপক্ষে সন্দেহাতীতভাবে অনেক প্রমাণ হাজির করলেন। তিনি কিং কমিশনের সামনে এই স্বীকারোক্তি দিলেন, ১৯৯৬ সালে তাকে মুকেশ গুপ্তর সঙ্গে মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন কানপুরে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। ক্রিকেট ডাকাত গুপ্ত ক্রুজকে ৪০ হাজার ডলার বা আমাদের এখনকার টাকায় ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার ৬৪০ টাকা দিয়েছিলেন অবৈধভাবে খেলার তথ্য দেওয়ার জন্য।

২০ জুলাই ২০০০ : সিবিআই একসঙ্গে ভারতের প্রধান খেলোয়াড়দের বাড়িতে অভিযোগ প্রমাণের জন্য হঠাৎ উপস্থিত হয়ে তল্লাশি করে। তাদের মধ্যে আজহারউদ্দিন, সহ-অধিনায়ক অজয় জাদেজা, নয়ন মোঙ্গিয়া এবং নিখিল চোপড়া ছিলেন। তারা তখনকার ভারতীয় দলের কোচ ও বিখ্যাত বিশ^কাপজয়ী ক্রিকেটার কপিল দেবের বাড়িতেও হঠাৎ তল্লাশি করেন। তবে কারও বাড়িতেই সন্দেহ করার মতো কোনো প্রমাণের খোঁজ পাননি।

২৮ আগস্ট ২০০০ : গিবস ও উইলিয়ামসকে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। স্ট্রাইডোমকে অভিযোগগুলো থেকে খালাস দেওয়া হয়। সেই সময়ই সিবিআইয়ের তদন্তের মুখে পড়ে আজহারউদ্দিন যেটি স্বীকার করেন সেটি পরে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, তিনটি একদিনের খেলা আগে থেকেই টাকার বিনিময়ে তিনি নির্ধারণ করেছিলেন। প্রথমটি ছিল রাজকোটে ১৯৯৬ সালে। খেলাটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে, পরের বছর শ্রীলঙ্কাতে পেপসি কাপে, সর্বশেষটি করেছিলেন ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। তবে পরপরই এক সাক্ষাৎকারে কোনো খেলাই পাতানো হয়নি বলে অস্বীকার করেন। এই ধরনের কোনো কাজে যুক্ত ছিলেন না বলে জানান।

৩১ অক্টোবর ২০০০ : সিবিআইয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে জাতীয় দলের সহ-খেলোয়াড় অজয় জাদেজা ও নয়ন মোঙ্গিয়ার সাহায্য নিয়ে ভারতীয় জাতীয় দলের অধিনায়ক খেলা আগে থেকেই নির্ধারণ করেছেন বলে প্রমাণ ছিল। প্রমাণে বলা হয়, সেজন্য হয় ইচ্ছে করে আউট হয়েছেন নয়তো নিজেদের প্রয়োজনমাফিক খেলার বিপক্ষে খেলেছেন।

মুকেশের মাধ্যমে মাধ্যমে সিবিআই আজহারউদ্দিন, মনোজ প্রভাকর, অজয় জাদেজা, অজয় শর্মা এবং নয়ন মোঙ্গিয়ার বিরুদ্ধে প্রমাণ দাখিলের যথেষ্ট প্রমাণ পেয়ে গেল। ফলে ২০০০ সালের নভেম্বরে ভারতের এই উজ্জ্বল তারকাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হলো।

২৭ নভেম্বর ২০০০ : বিসিসিআই আজহারের ম্যাচ আগে থেকে নির্ধারণের প্রমাণ খুঁজে পায়। জাদেজা, মনোজ প্রভাকর, অজয় শর্মা এবং ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ফিজিও আলি ইরানিও একটি বাজির ডায়েরিতে ক্রিকেট জুয়াড়িদের সঙ্গে মিলে খেলা আগে থেকে নির্ধারণ করেছেন বলে প্রমাণিত হয়। সেখানে নানা তথ্য ছিল। মোঙ্গিয়া এবং কপিল নির্দোষ ননÑ ঘোষিত হন।

ক্রিকেটে ব্যাটিং ফলাফলে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি বল থেকে বল, ওভার থেকে ওভারে বদলে যায়। বাজি ধরা চোরেরা ব্যাটিংয়ের সময় ব্যাটসম্যানদের এমনকি ফিল্ডারদের হাতে বলকে তুলে দেওয়ার জন্যও ব্যাটসম্যানদের রাজি করিয়ে ফেলে। ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়রা আগে থেকেই কত রান করবেন এবং কখন তারা আউট হবেন সেটি এই বাজি অনুসারে ঠিক করে ফেলে। এই অবস্থায় জাতীয় দলগুলোর অধিনায়কদের ভূমিকা হয়ে ওঠে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংকটপূর্ণ। এভাবে আজহারউদ্দিন, হ্যানসি ক্রনিয়ে এবং সম্ভবত অ্যালেক স্টুয়ার্ট (ইংল্যান্ড), ব্রায়ান লারা (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) এবং অরবিন্দ ডি সিলভা (শ্রীলঙ্কা) সাবেক সব অধিনায়ক ও সেরা খেলোয়াড়; যদিও তাদের ম্যাচ আগে থেকেই নির্ধারণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি; তাদের সবার নামটি এসেছে এই ধারাবাহিকতায়। ভারতের ক্রিকেটকে সবচেয়ে দূষিত করে জুয়া ও আগে থেকে ম্যাচ নির্ধারণ বলেছে সিবিআই।

৫ ডিসেম্বর ২০০০ : আজহারউদ্দিন ও অজয় শর্মাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে বিসিসিআই। জাদেজাকে পাঁচ বছরের জন্য খেলা থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। প্রভাকর এবং ইরানিকে পাঁচ বছরের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দলের যেকোনো পদে আসার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করা হয়। তখনই কোনো ধরণের প্রমাণ না পেয়েই গুজবের ভিত্তিতে বিসিসিআই নিষিদ্ধ করেছে আদালতে মামলা করেন আজহার।

২০০২ সালের ১ জুন ৩২ বছর বয়সে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়কের পূর্বনির্ধারিত বিমান জোহানেসবার্গ থেকে জর্জে যাবার সময় আর উড়তে না পেরে মাটিতে অবতরণ করে। এরপর বিনা ভাড়ায় একমাত্র যাত্রী হিসেবে গড়ে ৪০ আসনের ব্রিটেনে তৈরি ভালো বিমানে ওঠেন। জর্জ বিমানবন্দরের কাছে কুয়াশার জন্য চালকরা দূরের অবস্থা দেখা দেখতে পারছেন না, বিমানটি মাটিতে নামিয়ে আনতে পারছেন না; পরে প্রমাণ হয়েছে তাদের কাছে অবতরণের উপকরণ যথেষ্ট ছিল না। ফলে নামার জন্য জায়গা খুঁজতে খুঁজতে ওড়া অবস্থায় কাছের বিমানবন্দরের পাশে আউটেনিকোয়া পবর্তমালার সেটি বিধ্বস্থ হয়। সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসের সবচেয়ে চৌকশ, সেরা অধিনায়ক (ভূত বা গোষ্ট নামে ডাকা হতো) ক্রেনিয়ে ও দুই বিমানচালক নিহত হন।

ডিসেম্বর ২০০৩ : অজয় জাদেজাকে দিল্লি হাইকোর্ট মামলা দায়েরের ফলে এই মর্মে রায় দেন, ম্যাচ আগে থেকে নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই বলে তিনি নির্দোষ।

২০০৬ সালের আগষ্টে সরকারিভাবে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু নাও হতে পারে এই বিবেচনায় বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার সেই ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকার হাই কোর্টের মাধ্যমে সরকার অনুসন্ধান করে। তাতে বলা হয়, মৃত উইসেল জোহানেস ক্রনিয়ের বিষয়টি কর্ম তালিকায় হয়তো হত্যাকা-, বিমান চালকদের কাজের পরিনামে তিনি মারা গেছেনÑএই যুক্তিতে কর্ম তালিকায় আনা হয়েছে। যুক্তিতে ও বোধে এই কথাটি প্রচলিত হয়েছেÑতিনি ম্যাচ প্রতারকদের সিন্ডিকেটের হাতে নিহত। আদালত বলেন, তিনি ম্যাচ প্রতারণার বিরুদ্ধে সত্য যেন বলতে না পারেন সেজন্য নিহত হয়েছেন। যুক্তি ও ভালোবাসাটি ২০০৭ সালে পাকিস্তান জাতীয় দলের কোচ বব উলমারের পথ ধরে ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডের নটিংহামশায়ারের কোচ ক্লাইভ রাইসও মৃত্যু বরণ করায় আরো বিস্তৃত হয়েছে।

১২ বছরের দীর্ঘ আইনের লড়াই শেষে ২০১২ সালের আট নভেম্বর অন্ধ্র প্রদেশের হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সত্যতা বিচার করে আজহারের আজীবনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন ও বলেন, অব্যাহত রাখার প্রয়োজন নেই।

বিষন্ন আজহার তখন বলেন ‘অনেক বছর ধরে আইনের মাধ্যমে এই বিচারে আমি সতিই খুশি হয়েছি। আমার বিবেক সবসময়ই পরিষ্কার ছিল। কারণ আমি আমার ক্যারিয়ারে কোনো ধরণের অবৈধ কোনো কাজ করিনি। এখন নিষেধাজ্ঞা এটি আমার কাছে করুণার বিষয়। কেননা আমার ক্ষেত্রে আজীবন নিধেষাজ্ঞা কোনো ধরণের বৈধ প্রমাণ ছাড়াই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে আমার মামলাটি শুরু থেকেই খুব শক্তিশালী ছিল। যখন আপনি ম্যাচ নির্ধারণের কলঙ্কের বোঝা কোনো কিছু না করেই মাথায় নেবেন, তখন ভয় পাবার মতোই হয়। সেই ভয় ও অপমান অনেক বছর বয়ে বেড়াতে হয়। ক্যারিয়ারকে শেষ করে দেয়। তারপরও আমি খুশি, মামলার তথ্যগুলো বিচার করে সম্মানিত বিচারকদের রায় অবশেষে আমার পক্ষেই গিয়েছে।’ এরপর তিনি রাজনীতি শুরু করেন। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।